স্পোর্টস ডেস্ক : তিনবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতালির উদীয়মান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড গড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ইউনাইটেড। বদলি খেলোয়াড় জশুয়া জিরকজি শেষ মুহূর্তে একটি গোল করায় বড় লজ্জা থেকে বেঁচে যায় দলটি।
অন্যদিকে দুই গোল ও এক গোলে সহায়তা করে কোমোর জয়ের নায়ক হয়েছেন আর্জেন্টাইন প্লেমেকার নিকো পাজ। টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন থাকার ধারা ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ক্যারিকের দল। কিন্তু লেক কোমোর মনোরম পরিবেশে তাদের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের দুই মিনিটের মধ্যেই গোল করে বসেন নিকো পাজ।
এই গোলের ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে টানা দুই ম্যাচে শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের অংশ হলো।
বিরতির পর ৪৯ মিনিটে পাজের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আনাস্তাসিওস দুভিকাস। ৫৭ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কার্লোস বালেবার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পাজ। এরপর ৭৬ মিনিটে কাইকি ব্রুনোর ক্রস থেকে হেডে কোমোর হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন জ্যাকোবো রামন।
যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে হেডে ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন জশুয়া জির্কজি। তবে তাতে হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো লাভ হয়নি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এটি মাত্র ষষ্ঠ ম্যাচ, যেখানে তারা তিন বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে হেরেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে হারের পর এটিই তাদের জন্য এমন বড় ব্যবধানের প্রথম পরাজয়।
ম্যাচ হারের পর ক্যারিক ‘টিএনটি স্পোর্টস’-কে বলেন, এটি কেবল হতাশাজনকই ছিল না, তার চেয়েও বেশি কিছু।
আমার মনে হয়, এর দায় সবারই নেওয়া উচিত। পুরো দল এবং পারফরম্যান্সের শতভাগ দায়ভার আমি নিচ্ছি। সব দায় আমার ওপরই বর্তায়। আমি তা পুরোপুরি মেনে নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ফুটবল ক্লাবের একজন সমর্থক হিসেবে আমি এই ক্লাবটিকে অনেক ভালোবাসি।
এমন পারফরম্যান্স দেখাটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ইউনাইটেড এমনিতেই অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে মার্টিনেজ ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করেছিলেন, বিশেষ করে অফ-সিজনে খেলোয়াড় নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে। যেখানে ক্লাবের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স সম্ভবত তার সমালোচনার মূল লক্ষ্য ছিলেন।
এই হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিষেক মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা কোমো তুলে নিয়েছে টানা দ্বিতীয় জয়।