আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মেসি অবসরের সিদ্ধান্ত জানান। দীর্ঘ ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তকে নিজের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেসি লেখেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এতদিন সময় যাওয়ার পর, অনেক ভেবেচিন্তে, আমি আপনাদের সকলকে জানাতে চাই যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’
তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে এখন তিনি মনে করছেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়।
মেসির ভাষায়, ‘আমি কসম কেটে বলছি, আমি সব সময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি—শুধু শেষ কয়েক বছর নয়, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি; বরং শুরু থেকেই এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে চেয়েছি।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে মেসি বলেন, এই অধ্যায় শেষ করা তার জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্টের। তবে তিনি মনে করেন, দলের হয়ে দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই।
তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার দলে এখন অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।
গত ২০ বছরের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি বলেন, মাঠের ভেতর থেকে সমর্থকদের গর্জন তিনি খুব মিস করবেন। অবসরের পরও বাইরে থেকে একজন সমর্থক হিসেবে আর্জেন্টিনা দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিজের পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা থেকে অগণিত স্মৃতি ও স্মরণীয় মুহূর্ত সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন।
মেসি বলেন, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের স্বপ্নের মতো কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছেন—এটাই তার বিদায়ের সময়ে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
শেষে মেসি লেখেন, ‘আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে সৃষ্টি করার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা।’
উল্লেখ্য, মেসি জানান, তিনি ২১ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই কথাগুলো লিখেছিলেন। তবে বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনার পর তিনি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন যে, জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তটিই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।