স্পোর্টস ডেস্ক : শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে আরসিডিই স্টেডিয়ামে এস্প্যানিওলের বিপক্ষে স্প্যানিশ লা লিগায় এবারের মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শুরুতে রিয়াল এগিয়ে গেলেও সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে রিয়ালকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন নতুন রিক্রুট কার্লোস এসপি।
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের খেলায় পুরোনো গোছালো ও আক্রমণাত্মক ধারার ছাপ রাখার চেষ্টা করেন মরিনহো। ম্যাচের নবম মিনিটে তরুণ তুর্কি আরদা গুলারের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন জুড বেলিংহাম। মনে হচ্ছিল, বড় কোনো ব্যবধানেই জয় দিয়ে কামব্যাক রাঙাবে লস ব্লাঙ্কোসরা।
তবে ঘরের মাঠে দমে যায়নি স্বাগতিক স্প্যানিয়লও। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় হাভি হার্নান্দেজের পাস থেকে দারুণ এক শটে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান কালা ট্রাভোরা। এরপর ম্যাচের বাকিটা সময় জুড়ে এস্প্যানিওলের জমাট ও দুর্ভেদ্য রক্ষণপ্রাচীর ভাঙতে গিয়ে বেশ ঘাম ঝরাতে হয় রিয়াল আক্রমণভাগকে।
ম্যাচ যখন ধীরে ধীরে ১-১ ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা চেপে বসছিল, ঠিক তখনই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেই বিখ্যাত মুন্সিয়ানা দেখান ‘স্পেশাল ওয়ান’। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে মরিনহো তার তুরুপের তাসটি খেলেন। লেভান্তে থেকে ২১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে রিয়ালে যোগ দেয়া ২১ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার কার্লোস এসপিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান তিনি। আর মাঠে নেমে কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি এই তরুণ তুর্কি।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিট) কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগত গতির ঝড় তুলে স্প্যানিয়লের রক্ষণভাগ চুরমার করে বক্সে ঢুকে পড়েন। তার বাড়ানো নিখুঁত পাসটি ফাঁকায় পেয়েই জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন বদলি নামা কার্লোস এসপি। এই একটিমাত্র গোল কেবল রিয়াল মাদ্রিদকে পূর্ণ ৩ পয়েন্টই উপহার দেয়নি, বরং মরিনহোর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে করে তুলেছে উৎসবমুখর ও চিরস্মরণীয়।
এস্প্যানিওলের কঠিন মাঠ থেকে এই কষ্টার্জিত জয় প্রমাণ করে, লস ব্লাঙ্কোসদের ডাগআউটে মরিনহোর সেই পুরোনো ম্যাচ রিডিং ও জয়ের ক্ষুধা আজও অমলিন।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে মানসিকতা তিনি অতীতে রিয়ালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কামব্যাকের প্রথম ম্যাচেই তার দেখা মিলল। এই জয় পুরো রিয়ালশিবিরে এনে দিয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। বলাই বাহুল্য, হোসে মরিনহোর হাত ধরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু হলো এক নতুন, দীপ্ত ও রোমাঞ্চকর যুগ।