স্পোর্টস ডেস্ক : কোকেন পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়ার পর পেশাদার টেনিস থেকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা টেনিস খেলোয়াড় নিক কিরগিয়স।
গত ২২ জুন মায়োরকা ওপেনে কিরগিয়সের ডোপ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টেগ্রিটি এজেন্সি গত ৪ আগস্ট তাঁর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার কিরগিয়সের রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় পর্যন্ত তিনি আপিল করেননি।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিরগিয়স নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি একটি বিশাল ভুল করেছি এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার নিচ্ছি।” ভক্ত, পরিবার, স্পনসর এবং তাঁর অনুসরণ করা শিশুদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
কিরগিয়স জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে চোটের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। হাঁটু ও কবজির দীর্ঘদিনের সমস্যায় তাঁর কেরিয়ারও বারবার বাধা পেয়েছে। নিজের শরীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া না দেওয়ায় এবং কেরিয়ারের শেষপ্রান্তে চলে আসা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল বলেও জানান তিনি।
চলতি মরশুমে চারটি সিঙ্গলস ম্যাচ খেলেছেন কিরিয়স। সর্বশেষ উইম্বলডনে আলেকজান্ডার বুবলিককে সঙ্গে নিয়ে পুরুষদের ডাবলসে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হয় এই জুটিকে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম-সহ পুরুষ ও মহিলাদের পেশাদার টেনিস ট্যুরের আওতাধীন কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে, কোচিং করতে কিংবা উপস্থিত থাকতে পারবেন না কিরগিয়স।
নিজের ভুলকে কোনওভাবেই অজুহাত দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছেন না বলে জানিয়েছেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের প্রাক্তন ১৩ নম্বর এই খেলোয়াড়। বরং এই ঘটনা তাঁর জন্য একটি 'ওয়েক আপ কল' হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
কিরগিয়স আরও জানিয়েছেন, আগামী ২৮ দিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকবেন। এই সময়ে নিজের জীবন গুছিয়ে নেওয়া এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে চান তিনি। পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করার জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।