শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বরফ গলছে, দিল্লি সফরে বার্তা নিয়ে ফিরছেন ত্রিবেদী ◈ প্রযোজক সমিতির নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন তুললেন আরশাদ আদনান: ‘আগে সিনেমা, তারপর নেতৃত্ব’ ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে জল্পনা, নীরব কৌশলে শীর্ষ পর্যায়ে তৎপরতা ◈ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বীরদের তালিকা তৈরিতে নতুন উদ্যোগ সরকারের ◈ বাংলাদেশের বিরু‌দ্ধে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা ◈ তিন কারণে দেশে বেড়েছে লোডশেডিং ◈ শপিং মল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও নাম ঘোষণা কাল ◈ বালু থেকে চিপ শিল্পের পথে বাংলাদেশ : ৮ নদীর বালুতে সেমিকন্ডাক্টরের সম্ভাবনা, সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৬০০ নমুনা ◈ ২০০ কি.মি.র ভোগান্তি শেষ: যমুনায় ২ নদীবন্দরে বদলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০২:২৩ রাত
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বরফ গলছে, দিল্লি সফরে বার্তা নিয়ে ফিরছেন ত্রিবেদী

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েন কাটাতে ইতিবাচক নানা উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত সরকারের তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ঢাকা। সম্প্রতি দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক ও তথ্য আদান-প্রদানকে পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটা প্রশমিত। ওই ঘটনার পর নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। কূটনীতিক বোদ্ধারা বলছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকা যে বার্তা দিয়েছে তা সরাসরি দিল্লির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠকের পরই নয়াদিল্লি গিয়ে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের ব্যাপ্তি ছিল প্রায় এক ঘণ্টা। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারের অবস্থান এবং প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিষয় নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে ঢাকার তরফে যে ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়েছে, সেই বার্তাই মোদির কাছে সরাসরি পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কোনো হাইকমিশনারের ঢাকায় একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সরাসরি নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারের বার্তা পৌঁছে দেয়া কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে আস্থা ফেরানোর বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে হাইকমিশনার করে পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। গত এপ্রিলে তার নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকও ছিল সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ওই বৈঠক শেষে ত্রিবেদী বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি দুই দেশের সরকার প্রধানের পাশাপাশি বসার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি
যদিও এবারের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের তাৎক্ষণিক পটভূমিতে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনা। ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ঘিরে যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছে ঢাকা। ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অডিও বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিষোদগার করেছেন।

হাসিনাকে কোনোভাবেই যেন মতবিনিময় করার অনুমতি না দেয়া হয় সে বিষয়ে দিল্লিকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত সরকার সেই অনুষ্ঠান করতে দেয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর। একইসঙ্গে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ঢাকার অনুরোধের বিষয়টিও সামনে আনা হয়।

এর পর পরই নয়াদিল্লি যে অবস্থান ব্যক্ত করেছে তা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। সেখানে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক- দুটি বিষয়ই দেখা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে প্রকাশিত মতামত ভারতের সরকারি অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। ভারতের এমন অবস্থান ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। খোদ ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা দিল্লির এমন দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেছে। অনলাইন টেলিগ্রাফের এক সম্পাদকীয়তে ভারতের মাটিতে হাসিনাকে মতামত দেয়ার সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হাসিনার ছায়া থেকে বের হতে হবে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকার তরফে যে বার্তা দেয়া হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই তথ্যই পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করা, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের দিকে ফিরে যাওয়া। দীনেশ ত্রিবেদীর আগামী ১৪ই আগস্ট মোদির বার্তা নিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যেতে পারেন। সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও। তবে এখনো দিন তারিখ নিশ্চিত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেয়ার সম্ভাবনা ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই নেই’। 

দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশন- দু’টির জন্য আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ সরকারের সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা কম। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর পরিবর্তে নয়াদিল্লিতে একটি স্বতন্ত্র দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনের রাজনৈতিক আবহ এড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উৎস: মানবজমিন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়