হৃদয়-সাকিবদের জাফনা ফাইনালে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলাদেশি ব্যাটার তৌহিদ হৃদয় এবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। জাফনা কিংসের জার্সিতে দেখিয়েছেন তাণ্ডব। এতে গল গ্যালান্টসকে ১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে জাফনা কিংস।
রানবন্যার এই ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন তৌহিদ হৃদয়। আর বল হাতে ১ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এলপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে বুধবার (৫ আগস্ট) গল গ্যালান্টসের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৪২ রানের পুঁজি গড়ে জাফনা কিংস। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল জাফনা কিংসেরই।
২০২২ সালে ডাম্বুলা অরার বিপক্ষে তারা তুলেছিল ২৪০ রান। ১০ চার ও সাত ছক্কায় ৫৫ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার মিশারা। চার নম্বরে নেমে পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ২৫৭ স্ট্রাইক রেটে ২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন হৃদয়। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে খাওয়াজা নাফে তিন ছক্কা ও চার চারে ৩২ বলে ৫৪ রান করেন। মূলত তৌহিদ হৃদয়ের শেষ দিকের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই বিশাল পুঁজি পায় জাফনা। ১৫ ওভার শেষে যেখানে তাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৭১ রান, সেখানে শেষ পাঁচ ওভারে তারা তোলে ৭১ রান। ১৬তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামেন হৃদয়। ১৭তম ওভারে থারিন্দু রাতনায়েকের প্রথম বলেই অবশ্য এলবিডব্লিউ হতে পারতেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তবে বেঁচে যান তিনি।
জীবন পেয়েই গল গ্যালান্টসের বোলারদের ওপর চড়াও হন হৃদয়। ওই ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম ছক্কা হাঁকান। ১৮তম ওভারে একটি চার মারার পর পরের ওভারে ইশান মালিঙ্গার প্রথম দুই বলই গ্যালারিতে পাঠান হৃদয়। শেষ ওভারের ছয় বলই খেলেন তিনি। সেঞ্চুরি করা মিশারাকে দর্শক বানিয়ে দুই চার ও দুই ছক্কায় ইনিংসের শেষ ওভার থেকে তোলেন ২২ রান।
এ নিয়ে এবারের এলপিএলে চার ইনিংসে হৃদয়ের মোট রান ১৪১। জবাবে ৮ উইকেটে লড়াকু ২২৮ রান করতে সক্ষম হয় গল। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন স্যাম হার্পার। চামিকা করুণারত্নে আশা জাগালেও তার উইকেট তুলে নেন সাকিব। ৩ ওভার বল করে ৩৬ রান দিয়ে এটিই ছিল তার একমাত্র শিকার। এই আসরে এটি তার নবম উইকেট। শেষদিকে গলের লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। ফাইনাল ম্যাচ হবে শনিবার কলম্বোতে।