স্পোর্টস ডেস্ক: নেইমার জুনিয়র অভিষেকেই ফুটবল প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছিলেন। ব্রাজিল সমর্থকদের আশা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু চোট জর্জর ক্যারিয়ারে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন শেষ আশা নিয়ে। কিন্তু সেটিও পূর্ণতা পায়নি। ফলে অপূর্ণতার গল্প নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন নেইমার।
বয়সটা এখনো খুব বেশি হয়নি। কিন্তু বারবার চোটের কারণে ৩৩ বছর বয়সেই জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর পর থেকেই ফুটবল আঙিনায় গুঞ্জন— তবে কি এবার বুট জোড়া চিরতরে তুলে রাখার সময় এসে গেছে? সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এমন অবস্থায় এসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান এসব জল্পনা-কল্পনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন খোদ ব্রাজিলিয়ান রাজপুত্র। - ঠিকানা
সম্প্রতি সাও পাওলোর এক জমকালো সন্ধ্যায় নিজের দাতব্য সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট নেইমার জুনিয়র’-এর বিশেষ নিলাম অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই মহাতারকা। স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দি, দুই মেয়ে মেল ও মাভি, বড় ছেলে ডেভি লুকা এবং বোন রাফায়েলা সান্তোসকে সঙ্গে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তবে সারারাত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটাই বিষয়— নেইমারের ফুটবল ভবিষ্যৎ।
চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে নেইমারের। দাতব্য সংস্থার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাব ফুটবলে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্ট কিছু না বলে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি।
অবসরের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি এখনই খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছি না, আবার কতদিন খেলব সেটাও নিশ্চিত করে জানি না। সান্তোসের সঙ্গে এই বছরের শেষ পর্যন্ত আমার চুক্তি আছে। আমার একমাত্র লক্ষ্য চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঠে নিজের সেরাটা দিয়ে দলের মান রক্ষা করা। এরপর দেখা যাবে কী হয়— ক্লাব ছাড়ব নাকি থেকে যাব, খেলা চালিয়ে যাব নাকি বুট জোড়া তুলে রাখব! সত্যি বলতে, তখন কী সিদ্ধান্ত নেব আমি নিজেও জানি না।
ডিসেম্বর পর্যন্ত এখনো বেশ কিছুটা সময় বাকি আছে উল্লেখ করে নেইমার আরও বলেন, ‘আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। এখন আমি শারীরিকভাবে একদম ফিট বোধ করছি। কালকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি পুরোপুরি তৈরি।’
সম্প্রতি চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলা এই ফরোয়ার্ড আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা তার নেই। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের আগে সান্তোসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তি পূর্ণ করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার।এদিকে কিছুদিন আগে নেইমারের জাতীয় দল থেকে অবসরের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তার বাবা (নেইমার সিনিয়র) মন্তব্য করেছিলেন, ‘চার বছর পর আপনারা কোথায় থাকবেন কেউ জানেন? এর মধ্যে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে!
নেইমারের বাবার এমন মন্তব্যের কথা সাংবাদিকরা স্মরণ করিয়ে দিলে বেশ রসিকতা করেই নেইমার হেসে উড়িয়ে দেন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘কথাটা তো ঠিকই, কারণ মাঠে তো আর ওনাকে (বাবা) দৌড়াতে হবে না, খেলতে হবে আমাকেই!