স্পোর্ট ডেস্ক : তালিকায় বিরাম নেই। প্রতিদিন জুড়ছে নতুন নতুন নাম। একের পর এক ক্রিকেটার চোট পাচ্ছেন। তার খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে। এই পরিস্থিতিতে বিরক্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পদক্ষেপ করতে পারে তারা। চাকরি যেতে পারে এক জনের। জিম্বাবুয়ে সফরে রেকর্ড ক্যাচ ফস্কানোর কারণে কয়েক দিন আগেই টি দিলীপকে সরিয়ে ভারতের ফিল্ডিং কোচ করা হয়েছে শুভদীপ ঘোষকে। এ বার আরও এক বদল হতে পারে।
চোটের কারণে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছিটকে গিয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ। খেলতে পারবেন না হর্ষিত রানা ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। ওয়াশিংটন সুন্দরও প্রথম টেস্টে নেই। তাঁর দ্বিতীয় টেস্টও অনিশ্চিত। এমনকি, সাই সুদর্শনের খেলাও অনিশ্চিত। তার জন্য় বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্র (সেন্টার অফ এক্সেলেন্স)-এর ছাড়পত্র লাগবে।
এই পরিস্থিতিতে বোর্ডের নিশানায় উৎকর্ষ কেন্দ্রের প্রধান ফিজ়িয়োথেরাপিস্ট কমলেশ জৈন। ২০২২ সালে নীতিন পটেল সরে যাওয়ার পর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন বার বার ক্রিকেটারেরা চোট পাচ্ছেন, কেন চোট সারতে সময় লাগছে, চোট সারার পরেই আবার কেন তাঁরা চোট পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি ভারতীয় দলে স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসাবে সোহম দেশাইয়ের বদলে আদ্রিয়ান লে রু-কে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আগে চোট পেলে ক্রিকেটারেরা চোখ বন্ধ করে ভরসা করতেন বেঙ্গালুরুর উৎকর্ষ কেন্দ্রের উপর। কিন্তু সম্প্রতি চোট সারাতে বোর্ডের বাইরের চিকিৎসকদের উপর নির্ভর করছেন ক্রিকেটারেরা। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ, টেস্ট ও এক দিনের দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা ঘাড়ের ব্য়থা সারাতে বিদেশি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি।
প্রশ্ন উঠছে, নিজেদের কাজ কি সঠিক ভাবে করতে পারছেন না কমলেশ? সেই কারণেই বার বার চোটের সমস্যা হচ্ছে। তাতে দল নির্বাচনে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় ম্যাচের দিন সকালে জানা যাচ্ছে, অমুক ক্রিকেটারের চোট লেগেছে। তার প্রভাব পড়ছে খেলায়। বিশেষ করে টেস্টের মতো খেলায় একটি নির্দিষ্ট দল না থাকলে মুশকিল। বিকল্প ক্রিকেটারদের দিয়ে বড় দলের বিরুদ্ধে টেস্ট জেতা যায় না।
ক্রীড়াবিজ্ঞান অনেক উন্নত হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অতীতে দেখিয়েছে, কী ভাবে ক্রিকেটারদের সুস্থ রাখা যায়। বিশ্বক্রিকেটে তার ফলও মিলেছে। কিন্তু গত এক বছরে যে ভাবে ক্রমাগত চোটের জেরে দলের অবস্থা হাসপাতালের চেহারা নিচ্ছে, তাতে বিরক্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এর সুরাহা চাইছে তারা। ফলে দ্রুত ফিজ়িয়োথেরাপিস্ট বদল হতে পারে। তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।