স্পোর্টস ডেস্ক : আগামী বছর আরও বড় করে এক দিনের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। দলগুলিকে বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলতে হবে। ফাইনালে ওঠা দু’দলের ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ১৩। ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তত ১৭ জন ক্রিকেটারের দল তৈরি করতে দেওয়ার দাবি জানাল অস্ট্রেলিয়া।
গত এক দিনের বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতকে খেলতে হয়েছিল ১১টি করে ম্যাচ। গত বিশ্বকাপে খেলেছিল ১০টি দল। আগামী বিশ্বকাপ হবে ১৪টি দলকে নিয়ে। সেমিফাইনালের আগে সুপার সেভেন রাউন্ড খেলবে সাতটি দল। দলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার ফরম্যাট পরিবর্তন হওয়ায় বেশি ম্যাচ খেলতে হবে দলগুলিকে। তাতে ক্রিকেটারদের শারীরিক ধকল বাড়বে। চোট-আঘাতের সম্ভাবনাও বাড়বে। সে কারণে দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা উচিত বলে মনে করেন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
ম্যাকডোনাল্ডের কোচিংয়ে ২০২৩ সালে এক দিনের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তিনি অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘আমার একটা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বিশ্বকাপে সকলে সেরা পারফরম্যান্স করতে চায়।
দল তৈরির ক্ষেত্রে সেটা মাথায় রাখা দরকার। গত বিশ্বকাপে ১৫ জনের দল নিয়ে আমরা একটু দ্বিধায় ছিলাম। মনে হয়, নিউ জ়িল্যান্ডও ছিল। আমাদের কয়েক জন চোট পেয়েছিল। যেমন ট্র্যাভিস হেড। নিউ জ়িল্যান্ডের কেন উইলিয়ামস-সহ কয়েক জন চোট পায়। ফলে প্রতিযোগিতা শুরুর সময় ১২-১৩ জনের মধ্যে থেকে প্রথম একাদশ বেছে নিতে হয়েছিল। শুরুর দিকে সব দলই চায় ছোট কিছু পরীক্ষা সেরে নিতে বা যে ভাবে তারা বিশ্বকাপ খেলতে চায়, সেটা ঠিক করে নিতে।
বড় দেশগুলোয় সর্বত্র একই রকম পরিবেশ পাওয়া যায় না। দেশের উত্তর অংশের সঙ্গে দক্ষিণ অংশের আবহাওয়া, পিচের মিল থাকে না। বা পূর্বের সঙ্গে পশ্চিমের। প্রতিযোগিতার মধ্যেই এই পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় বা সেই অনুযায়ী প্রথম একাদশ বেছে নিতে হয়। তাই হাতে বেশি বিকল্প থাকা উচিত।’’ উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জ়িম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়া।
ফুটবল বিশ্বকাপের উদাহরণ দিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। ফিফা প্রতি দলে ২৬ জন করে ফুটবলার রাখার অনুমতি দেয়। একসঙ্গে ১১ জনই মাঠে নামতে পারে। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছোনো দল দু’টি খেলতে হয় আটটি ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার কোচের বক্তব্য, ‘‘কম সময়ের মধ্যে অনেক ম্যাচ খেলতে হয় না।
কেউই চাইবেন না, তাঁর ক্রিকেটারেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ুক। সকলেই চাইবেন, দলের সেরা খেলোয়াড়েরা সব সময় প্রস্তুত থাকুক। আমার মনে হয়, কত জনের দল হবে, এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া দরকার।’’ ম্যাকডোনাল্ড আরও বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা। ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ভালই।
আমার আপত্তি নেই। তা হলে আরও বেশি ক্রিকেটার রাখার সুযোগও দেওয়া উচিত। তাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রথম একাদশ নির্বাচনে সুবিধা হবে দলগুলির। তা ছাড়া বেশি খেলোয়াড় রাখার সুযোগ থাকলে, প্রতিযোগিতার আগে চোট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের দলে রাখা যায়। বিশ্বকাপের আগেও টানা খেলতে হয়। চোট-আঘাত লাগতেই পারে।
কারও খেলার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকলেও তাকে দলে রাখার কথা ভাবা যেতে পারে। প্রতিযোগিতার পরের দিকে খেলানোর সুযোগ থাকবে তাতে।’’ কত জন ক্রিকেটার থাকা উচিত বিশ্বকাপের দলে? ম্যাকডোনাল্ডের মতে অন্তত ১৭ জনের দল হওয়া উচিত। যদিও আইসিসি ১৫ জনের দল রাখারই পক্ষে। ক্লান্তি এড়াতে দু’টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত দু’দিনের বিশ্রাম নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।