স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের নতুন এডহক কমিটি ফেডারেশনের হারানো সেই গৌরব পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আর এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রথম বড় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ হিসেবে টঙ্গীতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘২০২৬ ডব্লিউএএ প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ ও জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম।
রোববার (২৬ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন এই টুর্নামেন্ট ও নতুন কমিটির ভিশন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। উল্লেখ্য, তিনি একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার (ডব্লিউএএ) নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল তানভীর রায়হানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য তুলে ধরেন চপল। ফেডারেশনের শীর্ষ পদে ফিরে এসে আর্চারিকে তার পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন তিনি। মাঝের সময়টাতে আর্চারি পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি অকপটেই স্বীকার করে নেন চপল।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা একটু পিছিয়ে গেছি। তবে ওইটা পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই এই ধরনের আয়োজনটা করছি। ম্যানেজমেন্টের হয়তো চেঞ্জ হয়েছে, তবে আমি কখনোই ট্রেডিশনাল হওয়ার চেষ্টা করি নাই। আমি চেষ্টা করি নতুনত্ব আনার। যারা পিছিয়েছে তারা আমাদেরই সহকর্মী, আমাদেরই সতীর্থ। তাদের বদনাম করে তো আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। কাজেই আমরা নীরবে এটাকে মেকআপ কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টাই করছি।
শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন নয়, বরং এশিয়া মহাদেশে আর্চারির মান সমপর্যায়ে নিয়ে আসার বৃহত্তর লক্ষ্যের কথা জানান ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করি, তখন একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ‘ওয়ান ভিশন ওয়ান এশিয়া’। আমরা একটি ইউনিক এশিয়া গড়ে তুলতে চাই। একটা দেশ রাজত্ব করবে আর বাকিরা সব বটমে থাকবে, তা হবে না। সবাইকে এমন একটা স্তরে নিয়ে যেতে চাই যেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। যেমন কোরিয়াকে কেউ বিট করতে পারতো না, কিন্তু বাংলাদেশের মাঠেই কোরিয়াকে দুবার হারতে হয়েছে।
খেলোয়াড়দের এই উদ্বুদ্ধ করার জন্যই জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রামের সঙ্গে প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’
আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত টঙ্গীর আর্চারি ট্রেনিং একাডেমিতে বসবে এই মেগা আসর। এর মধ্যে ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে স্পোর্টস ইনজুরি সেমিনারসহ জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ।
বাংলাদেশ এর আগে ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২১ সালে এই জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম আয়োজন করলেও এবারের আসরটি বেশ ব্যতিক্রম। এবারই প্রথম প্রবর্তন করা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ’। এছাড়া আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচিত করতে ট্রেনিংয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন বেশ কিছু বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস ইনজুরি প্রিভেনশন, স্পোর্টস নিউট্রিশন, স্পোর্টস সাইকোলজি, এন্টিডোপিং এবং জেন্ডার ইক্যুইটির মতো বিষয়গুলো।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রোগ্রামে ১৭টি দেশের আর্চাররা সরাসরি অংশ নিলেও টেকনিক্যাল অফিশিয়াল ও অতিথি মিলিয়ে মোট ২৬টি দেশের ১১৪ জন প্রতিনিধি সম্পৃক্ত থাকছেন। জার্মানির অভিজ্ঞ প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক এবং কোরিয়ার ডেপুটি কোচ ইয়ং সুক পার্ক স্যালির অধীনে মোট ৭০ জন আর্চার (৩৮ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী) এই ট্রেনিং ও টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন।
এই আসরকে ঘিরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ১০ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে। দলের ৮ জন আর্চারের মধ্যে ৪ জনই অনূর্ধ্ব-১৮ ক্যাটাগরির, যা ভবিষ্যতের পাইপলাইন শক্ত করার ইঙ্গিত দেয়। রিকার্ভ পুরুষ এককে অভিজ্ঞ রামকৃষ্ণ সাহা ও আব্দুর রহমান আলিফ এবং রিকার্ভ মহিলা এককে সীমা আক্তার শিমু ও নাসরিন আক্তারের সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৮ ক্যাটাগরিতে লড়বেন ইমতিয়াজ আমিন ফাতেমি ফুয়াদ, মো. সাইফুল ইসলাম, সায়মা সালাহ উদ্দিন ও সোনালী রায়। দলের কোচের দায়িত্বে আছেন হিরা মনি ও মো. সাফায়েত হোসেন।