বিরতির পর মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে জাপান যখন এগিয়ে থেকে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পরের মুহূর্তেই কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর ম্যাচটা যখন রোমাঞ্চকর অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, তখনই দেখা মিললো সাম্বার ছন্দ। হিউস্টনে শেষ দিকে মার্তিনেল্লির স্কোরে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।
অথচ পুরো ম্যাচ জুড়ে ব্রাজিলকে হতাশ করে চলছিলেন জাপান গোলকিপার সুজুকি। নকআউট লড়াইয়ে যেমন রোমাঞ্চভরপুর থাকে তার সবটুকুই ছিল এই ম্যাচে।
বল দখলে দীর্ঘ সময় আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। তবে জাপানের গোছানো ও দৃঢ় রক্ষণের সামনে তেমন কোনো পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিলো না তারা। শেষ পর্যন্ত সাম্বার ছন্দ তুলে শেষ দিকে যোগ হওয়া সময়ে কাঙ্ক্ষিত গোল তুলে নেয় ব্রাজিল।
শুরুতে ব্রাজিলের আধিপত্যের বিপরীতে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশল ছিল জাপানের। সেই পরিকল্পনাতেই তারা সফল হয় ২৯ মিনিটে। দানিলোর ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে সানো বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে আলিসনকে পরাস্ত করে জাপানকে এগিয়ে দেন।
তার পর ভীষণ চাপে পড়ে যাওয়া ব্রাজিলকে আর ব্রাজিল মনে হচ্ছিলো না। কিন্তু বিরতির পরই ধার বাড়ায় সেলেসাওরা। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৫ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিল ব্রাজিল। ভেসে আসা এক ক্রসকে হেড করে গোলমুখে ফিরিয়ে দেন এক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়। সেখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে ডাইভিং হেড করেন কাসেমিরো। তবে গোললাইনেই বল গায়ে লেগে যায় তোমিয়াসুর। কী ঘটেছে, তা বুঝে ওঠার আগেই তার শরীরে লেগে বল ফিরে আসে। এবং শেষ পর্যন্ত বিপদমুক্ত হয় জাপান।
৫৬ মিনিটে অবশেষে আসে মান্দ্রেক্ষণ। জাপানের প্রথম গোলের সময় কিছুটা দায় ছিল কাসেমিরোর। কয়েক মিনিট আগেই সহজ একটি সুযোগও নষ্ট করেছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভুল করেননি ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে সমতায় ফেরান দলকে। মুহূর্তেই গ্যালারি জুড়ে দেখা মেলে হলুদ উৎসবের।
৬০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু অল্পের জন্য বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলটির দেখা মেলেনি! ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। এরপর বল পায়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে জোরালো শট নেন তিনি। তবে জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির আঙুলের ডগা ছুঁয়ে বল পোস্টে লাগলে হতাশ হতে হয় ব্রাজিলকে।
বিরতিতে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলত্তির দল।
হিউস্টনে ম্যাচের ২৯তম মিনিটে দানিলোর ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং কাসেমিরোর দুর্বল রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে জাপানকে এগিয়ে দেন সানো। প্রথমার্ধে ব্রাজিল খুব একটা ছন্দে ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ বদলে যায় তাদের খেলার ধরন।
এর আগে গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া সহজ একটি হেডের সুযোগ নষ্ট করলেও ৫৬তম মিনিটে আর ভুল করেননি কাসেমিরো। পেছনের পোস্টে শক্তিশালী হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান তিনি।
এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোল করে ফেলেছিলেন। একক নৈপুণ্যে রক্ষণভাগ ভেঙে জোরালো শট নিলেও জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির দুর্দান্ত সেভে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের বাড়ানো বল থেকে দারুণ বাঁকানো শটে জালের দেখা পান বদলি হিসেবে নামা মার্তিনেল্লি। তাতেই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন না পড়েই জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল। শেষ দিকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে যাওয়ার মূল্যই দিতে হয়েছে এশিয়ার দলটিকে।
শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ে।