দীর্ঘদিন পর ভারতীয় ভ্রমণ ভিসা চালু হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘স্লট’ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। একটি স্লট বুকিংয়ের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি দাবি করেন, ভারতীয় হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত সংখ্যক ভিসা স্লট উন্মুক্ত করা হলে সাধারণ আবেদনকারীরা সাইটে প্রবেশ করতে পারেন না। তার অভিযোগ, কিছু আইটি প্রতিষ্ঠান ও হ্যাকার চক্র স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা বট ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে অধিকাংশ স্লট দখল করে নেয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেখানে একজন ব্যক্তি এক সেকেন্ডে একটি ক্লিক করতে পারেন, সেখানে এসব সফটওয়্যার এক সেকেন্ডে শত শত ক্লিক করতে সক্ষম। ফলে ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং সাধারণ আবেদনকারীরা স্লট বুক করতে ব্যর্থ হন।
এজেন্সি প্রতিনিধির দাবি, এই চক্র সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ না করে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষ স্লট না পেয়ে বাধ্য হয়ে এজেন্সির শরণাপন্ন হন। পরে এজেন্সিগুলো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ওই সফটওয়্যার ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে স্লট বুকিং সম্পন্ন করে। এতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। তাদের মতে, ভিসা আবেদনের সংখ্যা সীমাবদ্ধ না রেখে উন্মুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা স্লট বুকিং ও পেমেন্ট সুবিধা চালু করলে কৃত্রিম সংকট অনেকটাই কমে আসবে। এতে আবেদনকারীরা সুবিধাজনক সময়ে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে সাইটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগও কমবে।
তবে ভারতীয় হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।