শিরোনাম
◈ আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন শর্ত ও কঠোরতা ◈ দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? ◈ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অসুস্থ, কারাগার থেকে আনা হলো ঢামেকে ◈ তিস্তা ব্যারেজ, কৃষি থেকে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, কৃষক ও প্রবাসীদের জন্য নতুন সুবিধা: বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ মেগা পরিকল্পনা ◈ আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার অন্ধকারের মুখে, দ্রুত চালুর দাবি জামায়াতের ◈ ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী মেঝেতে শুয়ে থাকার দৃশ্যকে অত্যন্ত লজ্জাজনক: বিরোধীদলীয় নেতা ◈ অবৈধ অফশোর অনলাইন ক্যাসিনোর প্রচারণা, হংকংয়ে গ্রেপ্তার পর্ন তারকা এরেনা সো ◈ দীর্ঘ দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন, কলকাতার নিউমার্কেটে ব্যবসায়ীদের উচ্ছ্বাস ◈ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্য: অভিযোগ জামায়াতের

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬, ০২:৫৯ দুপুর
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বলেছেন,  আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

আজ সোমবার  দুপুরে  জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছিলাম। দুর্নীতি, লুটপাট এবং ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, এমনকি সর্বস্ব হারিয়ে মানুষ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে।

তিনি  বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল এবং টাকার মান ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। অহেতুক ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা লোকদেখানো প্রকল্পের জন্য নেওয়া বিদেশী ঋণ এখন জাতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমরা এই সংকটকে অজুহাত বানাতে চাই না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে আমরা এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করব। 

প্রধানমন্ত্রী  বলেন,  এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এ কারণেই আমরা উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছি।

তিনি  বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বিবেচনা হলো—প্রকল্পটি মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে। আমরা ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়তে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন তখনই সার্থক হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে। যখন দরিদ্র মানুষ সামাজিক সুরক্ষা পায়, তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায় এবং কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে উদ্যোক্তারা হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে পারবেন এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থের নিরাপত্তা পাবেন।

দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্প স্থাপনে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।’

ভোলা জেলা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে, তাকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বিশাল ‘শিল্প পার্ক’ (Industrial Park) তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে সহজে ফান্ডিং বা লোন পেতে পারেন, সেজন্য আইনকানুন সহজ করা হচ্ছে। যাতে বিনিয়োগ সহজ হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়