হংকং পুলিশ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, এরেনা সো তার ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে একটি অফশোর ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্মের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। অবৈধ অফশোর অনলাইন ক্যাসিনো ও খেলাধুলা নিয়ে বাজির প্ল্যাটফর্মের প্রচার করার অভিযোগে হংকংয়ের পর্নো তারকা এরেনা সো’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই অনলাইন ক্যাসিনো হংকংয়ের বাসিন্দাদের অবৈধভাবে জুয়া খেলার সুযোগ দিচ্ছিল। হংকংয়ে সরাসরি এবং অনলাইন- উভয় ধরনের জুয়াই অবৈধ। যদিও প্রতিবেশী ম্যাকাওতে ক্যাসিনো বৈধ, হংকংয়ে অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হংকংয়ের ওয়েস্ট কাওলুন জেলা প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২৯ বছর বয়সী এরেনা সো তার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অফশোর জুয়ার ওয়েবসাইটের প্রচার চালিয়ে শহরের ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন করেছেন। তবে সো’র আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রভাবশালী এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব থেকে পর্নো তারকায় পরিণত হওয়া সো মনে করেছিলেন যে- প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি হংকংয়ে অবস্থানরত খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বাজি গ্রহণ করে না। সো’র বিরুদ্ধে ‘জুয়া পরিচালনা বা পরিচালনায় সহায়তার প্রচার’-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ হংকং ডলার (প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৭০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
মাত্র কয়েক দিন আগেই এরেনা সো তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও ক্রীড়া বিষয়ক বাজির প্ল্যাটফর্মটির প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারমূলক ভিডিওগুলোতে এশিয়াভিত্তিক ওই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম সোকে ‘পোকার দেবী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। হংকংয়ের প্রসিকিউটরদের দাবি, সো যে অফশোর ক্যাসিনোটির ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটিতে ক্রীড়া বাজি, স্লট মেশিন, টেবিল গেম, লাইভ ডিলার গেম এবং ই-স্পোর্টস বাজির সুবিধা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করা ওই প্ল্যাটফর্মটি নিজেদের ‘২০১৮ সাল থেকে এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী অনলাইন গেমিং ব্র্যান্ড’ বলে দাবি করে এবং মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে সেবা দেওয়ার কথা জানায়। কিন্তু এই তিনটি অঞ্চলেই অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া নিষিদ্ধ।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনলাইন জুয়ার প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে, যাতে মানুষ তাদের প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরতে আগ্রহী হয়। এরেনা সো জাপানেও বেশ পরিচিত। তিনি নিয়মিত সেখানে গিয়ে পর্নো ছবি নির্মাণ ও প্রকাশ করেন। জাপানে এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিতরণ বৈধ হলেও চীনে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। চীনের দণ্ডবিধি অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ এবং ভোগ সবই নিষিদ্ধ। দেশটি অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যা ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ নামে পরিচিত। এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার উদ্দেশ্য মূল ভূখণ্ডে অনলাইন ক্যাসিনোর প্রবেশও ঠেকানো। তবে অনেক চীনা ব্যবহারকারী ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) ব্যবহার করে এই সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যান।
কুরাসাও, মাল্টা, আইল অব ম্যান, ফিলিপাইনস, পানামা, কোস্টারিকা এবং আনজুয়ান-এর মতো অঞ্চল থেকে পরিচালিত অফশোর ক্যাসিনোগুলো আগ্রাসীভাবে চীনা গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালায়। এসব প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার মান্দারিনভাষী চীনা নাগরিককে তাদের দূরবর্তী লাইভ ডিলার স্টুডিও ও কল সেন্টারে কাজ করার জন্য আকৃষ্ট করে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং উচ্চ বেতনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে কর্মীদের নিয়ে গিয়ে কার্যত জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করেছে।