বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই টানা তৃতীয়বারের মতো বিদায় নিয়েছে সৌদি আরব। এর দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এসএএফএফ) সভাপতি ইয়াসের আল-মিশেহাল। এর মধ্য দিয়ে সৌদি ফুটবলের শীর্ষকর্তা হিসেবে তার সাত বছরের মেয়াদের অবসান ঘটলো। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানান, দলের এমন ভরাডুবি সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর সব দায় তার নিজের।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’ থেকে একটি ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখেনি ‘গ্রিন ফ্যালকন’রা। উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা আশা জাগালেও, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা। শেষ ম্যাচে টুর্নামেন্টের নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প ছিল না সৌদির। তবে সেখানেও গোলশূন্য ড্র করে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের নজির গড়ে মাঠ ছাড়ে সুলতান মান্দাশ-আলী লাজামীরা। এই ব্যর্থতার পর সাবেক ফুটবলার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন আল-মিশেহাল।
ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সৌদি ফুটবল প্রধান বলেন, ‘আমি পুরো দায়ভার নিচ্ছি। আমাদের দলকে আরও ভালো অবস্থানে দেখতে চেয়েছেন, এমন প্রত্যেকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। দায়িত্ববোধের জায়গায় একটি নতুন অধ্যায় শুরুর সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। এই দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমি বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপর্যয়ের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কোচ হার্ভে রেনার্ডের বিদায়ের পর তাড়াহুড়ো করে জর্জিওস দনিসকে কোচ নিয়োগ করা ছিল ফেডারেশনের চরম ভুল সিদ্ধান্ত। এছাড়া সৌদি প্রো লীগে (এসপিএল) কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমারদের মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলারদের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে স্থানীয় তরুণ প্রতিভা ও যুব উন্নয়ন প্রকল্প। ফলে মাঠের লড়াইয়ে অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারির মতো অভিজ্ঞদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
১৯৯৪ সালের পর আর কখনোই বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে পা রাখতে পারেনি সৌদি। আগামী বছর নিজেদের মাটিতেই বসবে এএফসি এশিয়ান কাপ, আর ২০৩৪ সালে তারা এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। তার আগে ফুটবলার তৈরি ও টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে বড় ধরণের সংস্কারের দাবি তুলেছেন সমর্থকেরা। আল-মিশেহাল পদত্যাগ করায় এখন বিধি অনুযায়ী দ্রুতই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।