বিশ্বকাপে কাতারকে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আসরের অন্যতম আয়োজক কানাডা। তবে তাদের ঐতিহাসিক সেই জয় কিছুটা ম্লান হয় মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের ভয়ঙ্কর চোটে। কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর ট্যাকলে তার বাম পা ভেঙে গেছে। যার শাস্তি হিসেবে মাদিবোকে ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা আজ বুধবার দিবাগত রাতে এই শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে হারানোর পথে কানাডার বিপক্ষে ওই ট্যাকলের জন্য মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, গুরুতর ফাউলের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে আপিল করার সুযোগ রয়েছে এই শাস্তির বিরুদ্ধে।
কাতার-কানাডা ম্যাচের ৫১তম মিনিটে পেছন দিক থেকে মাদিবোর কড়া ট্যাকলের শিকার হন কোনে। তিনি মাটিতে পড়ে পা ধরে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন এবং হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। তার আশপাশের খেলোয়াড়দের অভিব্যক্তিও বলে দিচ্ছিল ভয়ানক কিছু ঘটে গেছে। এ সময় মাদিবোকেও বিচলিত দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পরে ইনস্টাগ্রামে কোনে লেখেন, ‘যারা আমার খোঁজ নিয়েছেন এবং আমার জন্য প্রার্থনা করছেন, তাদের প্রতি আমি কতটা কৃতজ্ঞ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’ তার গুরুতর চোটের কারণে বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়টি ম্লান হয়ে যায়। ম্যাচ চলাকালে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। বাঁ পায়ের টিবিয়া ও ফিবুলা হাড় ভেঙে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে তার।
এর আগে বিশ্বকাপে আরও বড় নিষেধাজ্ঞারও নজির দেখা গিয়েছিল। ২০১৪ আসরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইতালির ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে চার মাসের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকেও বিরত রাখা হয়। এর আগে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে স্পেনের ফরোয়ার্ড লুইস এনরিকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করায় ইতালির ডিফেন্ডার মাউরো তাসোত্তি নিষিদ্ধ হন ৮ ম্যাচ।