স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রীড়াক্ষেত্রকে ড্রাগমুক্ত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের। এবার থেকে ডোপিংকেও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হচ্ছে। এতদিন ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়া ক্রীড়াবিদদের নির্বাসিত করা হত। কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে শুধু ক্রীড়াবিদ নয়, এই পুরো চক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যবসাটাকে নির্মূল করা যাবে।
সেটাই মূলত লক্ষ্য ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের। নিজের দেশে অলিম্পিক আয়োজন করতে চায় ভারত। সেখানে ডোপিং একটা বড় সমস্যা। এতদিন শাস্তি পেতেন শুধু ক্রীড়াবিদরা। কিন্তু তাঁদের যারা ড্রাগ সরবরাহ করতেন, তাদের শাস্তি দেওয়ার কোনও সুর্নিদিষ্ট আইন ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া উপর-উপর শেষ করে ফেলা হত। কিন্তু এর পিছনে এক বিরাট চক্র কাজ করছে। যা আসলে একটা সংগঠিত ব্যবসা। ডোপিং কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে ক্রীড়াবিদরা শাস্তি পেতেন, কিন্তু ব্যবসায়ীরা বেঁচে গিয়ে অন্য কোনও ক্রীড়াবিদকে লক্ষ্য করতেন। এবার গোড়ায় কোপ বসাতে চাইছে ক্রীড়মন্ত্রণালয়।
নতুন প্রস্তাবিত পরিকল্পনায়, নিষিদ্ধ দ্রব্য কেনা, বেচা বা বিতরণ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া সাপোর্ট স্টাফদেরও জবাবদিহি করতে হবে। যদি কোনও কোচ বা চিকিৎসক ক্রীড়াবিদদের নিষিদ্ধ ওষুধ দেন, তারা ফৌজদারি অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে নিষিদ্ধ ওষুধের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেগুলোও বন্ধ করা হবে।
তবে এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য। ফৌজদারি আইনের আওতায় আসার অর্থ এই নয় যে ক্রীড়াবিদদের জেলে পাঠানো হবে। মাদক চক্রগুলোকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু শুধুমাত্র একটি ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হওয়া বা ডোপিং-বিরোধী নিয়ম ভাঙার জন্য তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে না বা জেলে পাঠানো হবে না।
ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে একটা স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে। ড্রাগস ব্যবহার করলে তাঁদের নির্দিষ্ট শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অধীনে পাঠানো হবে। সেই প্যানেলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কাকে নিষিদ্ধ করা হবে বা কাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে, সেটা এই কমিটি ঠিক করবে।
নতুন নিয়ম প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হল তরুণ ও উদীয়মান ক্রীড়া প্রতিভাদের সুরক্ষা দেওয়া। কম বয়সে কোচের চাপে ড্রাগস নিতে ক্রীড়াবিদরা বাধ্য হন। ধরা পড়লে ক্রীড়াবিদ শাস্তি পান, কোচ বেঁচে যান। তাই খেলোয়াড়ের সঙ্গে যুক্ত কারও কাছে নিষিদ্ধ ওষুধ পাওয়া গেলে, তাঁকে আরও কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তবে কিছু ব্যতিক্রম থাকছে। যেমন চিকিৎসার জন্য অনেক ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ও অতিপ্রয়োজনে কোনও ওষুধ নিতে হয়, তার জন্য আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ডাক্তার ও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়বেন না।