স্পোর্টস ডেস্ক : নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল বার্সেলোনা। ইভা পায়োর ও সালমা পারালুয়েলোর জোড়া গোলে অলিম্পিক লিওঁকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতে নিয়েছে কাতালান জায়ান্টরা।
শনিবার (২৩ মে) নরওয়ের উলেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমার্ধে লিওঁর দাপট সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় বার্সাকে। তবে বিরতির পর পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফরাসি পরাশক্তিকে গুঁড়িয়ে দেয় স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ চালাতে থাকে লিওঁ। ১৪ মিনিটে ওয়েন্ডি রেনারের হেড গোলরক্ষক কাতা কোলের হাত ফসকে জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে আরও চড়াও হয় আটবারের চ্যাম্পিয়ন লিওঁ। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও ছিল তাদের দখলে। সাধারণত বল দখলে আধিপত্য দেখানো বার্সেলোনাকেই এদিন প্রথমার্ধে বলের পেছনে ছুটতে হয়েছে। তবে সুযোগ তৈরি করেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি ফরাসি ক্লাবটি। আর সেই ব্যর্থতারই কঠিন মূল্য দিতে হয় দ্বিতীয়ার্ধে।--- সময়নিউজ
৫৫ মিনিটে ম্যাচের জট খুলে বার্সেলোনা। নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে যান পাত্রি গুইহারো। এরপর ডানদিকে থাকা ইভা পায়োরকে নিখুঁত পাস দিলে কঠিন কোণ থেকেও দারুণ ফিনিশে গোল করেন পোলিশ স্ট্রাইকার। ১৪ মিনিট পর আবারও আঘাত হানেন পায়োর। এবার লিওঁর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগান তিনি। এসমি ব্রুগৎসের বাড়ানো বল কাছ থেকে জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ২৯ বছর বয়সী এই গোলশিকারি।
দ্বিতীয় গোলের পর যেন ভেঙে পড়ে লিওঁ। প্রথমার্ধে যারা বলের নিয়ন্ত্রণে ছিল, বিরতির পর তাদেরই নিষ্প্রভ দেখায়। আক্রমণে ধার হারিয়ে ফেলায় ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি ফরাসি দলটি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে তৃতীয় গোল করেন সালমা পারালুয়েলো। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বার্সেলোনার বড় জয় নিশ্চিত করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
শেষ বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারিতে উৎসব শুরু করে বার্সা সমর্থকেরা। ‘কাম্পেওনেস! কাম্পেওনেস!’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। ম্যাচ শেষ হতেই সমর্থকদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠেন খেলোয়াড়রা। এই জয়টা বিশেষ আবেগেরও ছিল বার্সেলোনার নরওয়েজিয়ান উইঙ্গার ক্যারোলিন গ্রাহাম হ্যানসেনের জন্য। কারণ যে উলেভাল স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখান থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরেই তার বেড়ে ওঠা।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হ্যানসেন বলেন, ‘পুরো মৌসুমে অনেক কিছু ঘটেছে। নিজের শহরে, নিজেদের সমর্থকদের সামনে এভাবে শিরোপা জেতা সত্যিই বিশেষ কিছু। এই মাঠের প্রতিটি ঘাস আমার চেনা। আজকের রাতটা আমি কোনোদিন ভুলব না।
অন্যদিকে, নিজের নরওয়ে সতীর্থ হ্যানসেনের উচ্ছ্বাসের বিপরীতে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন লিওঁ তারকা আডা হেগারবার্গ। নবম শিরোপার স্বপ্নভঙ্গের পর তিনি বলেন, ‘আজ দিনটা আমাদের ছিল না। আমরা তাদের রক্ষণভাগের পেছনের জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। তবে এত বছর ধরে যে সাফল্য পেয়েছি, তার পর একটা হার নিয়ে মাথা নিচু করার কিছু নেই।