ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল কি ধরনের নিরাপত্তা পাবে, তা জানতে চেয়ে রবিবার আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে বিসিবি। ব্যক্তি মোস্তাফিজকে যদি বিসিসিআই নিরাপত্তা দিতে না পারে, সেক্ষেত্রে দল হিসেবে টাইগারদের জন্য দেশটি অনিরাপদ কিনা–সে ব্যাখ্যাও চাওয়া হবে। মোস্তাফিজের নাম সরিয়ে দেয়ার কারণ জানতে চিঠি দেয়া হবে আইপিএলের প্রধান নির্বাহীকেও।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। গুটিকয়েক উগ্রবাদীদের হুমকিতে আইপিএল থেকে কাটার মাস্টারের নাম বাদ দেয়ায় ভারতে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ। পরিচালকদের সম্মতিতে আইসিসিতে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যেখানে তিন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ঠিক কি ধরনের নিরাপত্তা পাবে। অন্যান্য দলের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে কিনা। ব্যক্তি মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত সরকার পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কতটুকু সামর্থ্য রাখে, সে প্রশ্নও থাকবে চিঠিতে। বিশ্বকাপে শুধু ক্রিকেটার নয়, সংবাদ সংগ্রহে বাংলাদেশি গণমাধ্যম কর্মী, বিসিবি অফিসিয়ালস, কিংবা সমর্থকদের জন্য ভারত নিরাপদ কিনা?–এই তিন প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক না হলে ভারতে বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে নতুন করে ভাববে বিসিবি।
চিঠি দেয়া হবে আইপিএলের প্রধান নির্বাহীকেও। ঠিক কি ধরনের প্রেক্ষাপটে মোস্তাফিজ ভারতে অনিরাপদ, তা জানতে চাইবে বিসিবি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানানোর আগেই কেন ভারতীয় গণমাধ্যমে এই খবর আসলো সে ব্যাখাও চাওয়া হবে। এমন আচরণ যে বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য বিব্রতকর, সেটাও মনে করিয়ে দেয়া হবে।
দুটো চিঠির উত্তরই বিসিবি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চাইবে। বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে আছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও হাঁটতে পারে সে পথে। সিদ্ধান্তটা কঠিন, তবে মোস্তাফিজ ইস্যুতে জল যতদূর গড়ালো, তাতে ঐ কঠিন পথটাই এখন একমাত্র রাস্তা বিসিবির জন্য।