জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে মতভিন্নতা একটি বড় কারণ বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সন্ত্রাসীদের গুলিতে শরিফ ওসমান হাদির মারা যাওয়ার ঘটনা এনসিপির সিদ্ধান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে বলেও জানান তিনি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা এনসিপির সিদ্ধান্তে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে।
আমরা খেয়াল করে দেখি, যে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলাদেশকে কবজা করে রাখতে চাইছে— যারা জুলাইয়ে অংশগ্রহণ করেছে, জুলাইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন তাদের টার্গেট কিলিংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা খেয়াল করে দেখলাম, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সংস্কারের প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনে ভূমিকা রেখেছি। জাতীয় নাগরিক পার্টির এই সংস্কারের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু সেই সংস্কারের বিষয়গুলো আসলে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে বা না হবে, সে বিষয়গুলো আসলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির একার পক্ষে সেটাকে নিশ্চিত করে নিয়ে আসা সম্ভব নয়।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা চেয়েছিলাম বিএনপি-জামায়াত সকল রাজনৈতিক দলই একটা নতুন বন্দোবস্তের দিকে অগ্রসর হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জায়গায় উন্নত করতে সংস্কারের যে ম্যান্ডেটগুলোর সঙ্গে তারা অ্যালাইন করবে এবং সেটাকে তারা বিনাবাক্যে গ্রহণ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকে নতুন করে গঠনে তারা ভূমিকা গ্রহণ করবে। কিন্তু আমরা খেয়াল করে দেখেছি যে, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কারের বিষয়গুলোতে যখন আমরা কথা বলতাম তখন বরং বিএনপির সাথেই সংস্কারের বিষয়গুলোতে অন্য রাজনৈতিক যে দলগুলো আছে তাদের এক ধরনের মতবিভিন্নতা দেখা দিত। সেক্ষেত্রে এনসিপি এবং জামায়াতের সংস্কারের প্রশ্নে এক ধরনের ন্যাচারাল এলাইন তৈরি হয়।
তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের সংস্কার বাস্তবায়ন করাটা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং আমরা বাংলাদেশটাকে আগের কাঠামো নিতে চাই না, সে কারণেও আমরা এককভাবে না থেকে বরং আরও শক্তিশালীভাবে আরও অনেকের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সামনে যে নির্বাচন বৈতরণী আছে, সেটাকে পার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বিচারের যে কার্য পরিচালনা হচ্ছে, সেটাকেও নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করার এক ধরনের প্রবণতা রয়েছে এবং বাংলাদেশকে একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, একটা জবাবদিতার জায়গায় বাংলাদেশকে উন্নত করার একটা স্বপ্ন আমরা দেখি, একটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে বাংলাদেশকে পরিচালনা করা, একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতির দিকে অগ্রসর হওয়া— এই প্রত্যেকটা বিষয়ে বাংলাদেশকে যদি আমরা সামনের দিকে অগ্রসর করতে চাই। আমরা মনে করি এনসিপির সঙ্গে আরও অনেকগুলো রাজনৈতিক শক্তির একসঙ্গে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, এমন একটা প্রেক্ষাপটে বিচার, সংস্কার বাস্তবায়ন করা আধিপত্যবাদমুক্ত দুর্নীতিমুক্ত নতুন এক বাংলাদেশের প্রয়োজনে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য দলের জোটের সঙ্গে জোটের মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাই।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোট আগামীতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন পার হতে চায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
তারা বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্তকে তার ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লেভেল প্লেইং ফিল্ড, শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার করতে না পারা বিষয়েও জাতীয় নাগরিক পার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াসহ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। উৎস: বাংলানিউজ২৪