জেঁকে বসেছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাস যেন সুঁইয়ের ফলার মতো বিঁধছে। বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে ও দোকানপাটে তেমন লোকজন কম দেখা যাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। দরিদ্র মানুষের আয় বন্ধ থাকায় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না।
বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। রাজধানী ঢাকায় গতকাল রবিবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার তাপমাত্রা খানিকটা কমেছে। সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার তা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে পারে। ফলে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ খানিকটা বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা হয়তো এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা আবার কমে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, সাধারণত তাপমাত্রা নির্ভর করে কুয়াশার ওপর। এটি বেশি হলে তাপ কমে শীত অনুভূত হয়। আগামী কয়েক দিন সারা দেশে কুয়াশা বেশি পড়তে পারে। ফলে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং এটি আগামী কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে আজ সোমবার দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে ৭-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। গত শনিবার সন্ধ্যার পর উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা কুয়াশার বলয় আবারও রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঢুকছে। এর ফলে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে সারা দেশে কুয়াশার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিনি জানান, আজ সোমবার সকাল থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আজ সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। গতকাল দুপুর সাড়ে ৩টায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে পাওয়া কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর ঘন কুয়াশার উপস্থিতি রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে এসব বিভাগের জেলাগুলো ঘন থেকে খুবই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি তিন বিভাগের জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কুয়াশা থাকতে পারে। এছাড়া তিনি জানান, আজ সোমবার সকালে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় দুপুর ২টার আগে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্যদিকে খুলনা, বরিশাল, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ১০টার আগেও সূর্যের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
মূলত যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
এছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দোশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ দিনের শেষের দিকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উৎস: ইত্তেফাক।