যুক্তরাষ্ট্রে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার হবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের। শনিবার (৩ জানুয়ারি) এমনটি জানিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি। এই অভিযোগ প্রমাণ হলে বড় ধরনের সাজা হতে পারে তাদের। খবর নিউজউইকের।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বন্ডি জানান, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে (ব্যবহারের জন্য) মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখা’ সংক্রান্ত অপর একটি অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইউএস কোড ৮৪১-এর অধীনে ২৮০ গ্রামের বেশি ক্র্যাক কোকেন বা ৫ কিলোগ্রামের বেশি কোকেন বিতরণ বা বিতরণের উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রাখার ষড়যন্ত্রের জন্য ন্যূনতম ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
কর্নেল ল’ স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস কোড ৯৬০-এর আওতায় মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে, ধারা ৮৪১-এর ন্যূনতম শাস্তির অন্তত দ্বিগুণ কারাদণ্ড হতে পারে। এর অর্থ ন্যূনতম শাস্তি কমপক্ষে ২০ বছর।
বন্ডির ঘোষিত অভিযোগ এবং ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক হামলার সঙ্গে ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে পানামায় হামলার সাদৃশ্য দেখা গেছে। সে সময় স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগা আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
এর আগের বছর ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে নরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯২ সালে মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের আগের মেয়াদে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে মাদুরোসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ওই মামলায় অবশ্য মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের নাম ছিল না।
২০২০ সালের ওই অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মাদুরো কলম্বিয়ার গেরিলা সংগঠন ফার্কের সঙ্গে কাজ করেছেন। অভিযোগপত্রে তাকে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-এর নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।