সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রোববার (আজ) নতুন মুনাফার হার বাতিল করে পূর্বের হার কার্যকর রাখতে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) অনুরোধ করেছে অর্থ বিভাগ। এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে আইআরডি।
এই প্রজ্ঞাপন জারি হলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা দেওয়া হচ্ছিল, আগামী ছয় মাস অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও সেই হারই বহাল থাকবে।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগের মুনাফার হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
জানা যায়, দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্র।
এ সঞ্চয়পত্রে এত দিন সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে ৫ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ; সেটিই বহাল রাখা হয়েছে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, সেটিও ঠিক আছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে, অর্থাৎ মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখনো তা বহাল রাখা হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বহাল থাকল।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ; যা আগামী ৬ মাসের জন্য ঠিক রইল। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ; তাও ঠিক আছে।
এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।