মনিরুল ইসলাম: ঢাকার রাজনীতির পরিচিত মুখ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস আবারও ফিরতে চান পুরনো সেই চেনা মাঠের রাজনীতিতে। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রেখে ধীরে ধীরে রাজনীতির মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই প্রবীণ নেতা।
৭৬ বছর বয়সী মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক জীবন প্রায় পাঁচ দশকের। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করে ওয়ার্ড কমিশনার থেকে শুরু করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, ভূমিমন্ত্রী ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
হঠাৎ অসুস্থতায় ছন্দপতন
গত ১১ মার্চ ইফতারের পর নিজ বাসায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। দ্রুত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে টানা সাড়ে চার মাস ফিজিওথেরাপি নেন তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরদিনই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রায় দুই দশক পর আবেগঘন বক্তব্য দেন। মানুষের টানেই চিকিৎসার মাঝপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
‘মাঠে ফিরতে মনটা ব্যাকুল’
শারীরিকভাবে এখনো পুরোপুরি সক্ষম না হলেও রাজনীতির মাঠে ফেরার প্রবল ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “মাছ যেমন পানিতে থাকে, আমিও তেমনি রাজনীতির মাঠে থাকতে অভ্যস্ত। এখনো মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে মাঠে ফেরার জন্য। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে পারছি না।”
তিনি জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রেখে নিজ বাসায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করছেন এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন।
চিকিৎসা চলছে, আবার চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন
বর্তমানে দেশীয় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আবারও মালয়েশিয়া যান তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাবের আশঙ্কা
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অনুপস্থিতিতে উন্নয়ন কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, “এই আসনের প্রতিটি বিষয়ে আমার মতামত প্রয়োজন হয়। আমি না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়।”
রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও বার্তা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খুব বড় পরিবর্তন দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব নেতাকেই সতর্ক থাকতে হয়। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, সরকার এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপিকে সরাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
জিয়া পরিবারের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান—এই তিন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, প্রতিটি সময়ের রাজনৈতিক ধারা আলাদা ছিল। তবে তার বিশ্বাস, তারেক রহমান দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
সবশেষে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।