কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হয়েছেন তুহিন হোসেন। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে থানায় মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।
জানা গেছে, মো. তুহিনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে আটক করে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে।
একটি অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সোহাগের পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ সোহাগ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহাগ।
সোহাগের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সদর দক্ষিণ থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। এ ছাড়া, তৎকালীন এসআই আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। তবে টাকা নেওয়ার পরও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহাগ। তিনি বলেন, তুহিন তাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুধু জিডি গ্রহণ করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সোহাগ আরও বলেন, ছোট অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে আরও বড় অপরাধ করার সাহস পায়। তার দাবি, আগের অভিযোগের সময় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকের সঙ্গে তুহিন হোসেনের সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের কয়েকজনের সঙ্গেও তার চলাফেরা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই সময় কিশোরদের আটকের ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।
তুহিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেও তার পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে এসব পরিচয় ও যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা যায়, তুহিনকে আটকের পর শাহরিয়া আনাস নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। আনাসের সঙ্গে তুহিনের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে আনাস অপ্রতিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অপ্রতিম মাঝেমধ্যে তাকে ছবি তোলার জন্য মেসেজ দিতেন।
তুহিনের বাড়ির পাশের এক নারী জানান, বাড়িতে তুহিন শান্ত থাকলেও বাইরে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মিশতেন। তার বিরুদ্ধে আগে বন্ধুদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক নারী জানান, বিভিন্ন কারণে তুহিনের বাবা তাকে মারধর করে শাসন করতেন। এদিকে, খবর পেয়ে তার এক খালা দুপুরে বাড়িতে আসার কথা জানালেও তুহিনের আচরণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।