মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নাম চূড়ান্ত হওয়ার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলীয়ভাবে তাঁকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইতোমধ্যে লিখিত সম্মতি দিয়েছেন। গত শনিবার তিনি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতিসূচক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর সম্মতি, সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব ও সমর্থনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব পদে দায়িত্ব পান। প্রায় ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি দলের নীতিনির্ধারণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের সময়েও তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও চাপের মধ্যেও তাঁর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তাঁকে দলের গ্রহণযোগ্য নেতাদের কাতারে নিয়ে এসেছে।
নতুন মহাসচিব নিয়ে জোর আলোচনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হয়ে যাবে। ফলে দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—তা নিয়ে ইতোমধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দুই নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।
সিদ্ধান্ত আসতে পারে কাউন্সিলে
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মহাসচিব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরেই নেওয়া হতে পারে। এর আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দিয়ে দলীয় কার্যক্রম সচল রাখা হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা দলটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।