শিরোনাম
◈ ইথানলের উৎপাদন বাড়লেও নেই চাহিদা, ৭০০ কোটি লিটার উদ্বৃত্ত নিয়ে বিপাকে ভারত ◈ শি জিনপিং-ট্রাম্প বৈঠক: ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক কমানোসহ ৮ সমঝোতা! ◈ বার বার বিমান বাংলাদেশে স্বর্ণের চালান ও কর্মীসহ আটক: ‘স্বর্ণের খনি’ হয়ে উঠছে উড়োজাহাজ? ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রেইলার শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ, বন্ধ কনটেইনার ডেলিভারি ◈ মিরপুরে হামলা-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা ◈ নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় এজহারভুক্ত আসামী গ্রেফতার মিজানুর রহমান ◈ দেশে চুরি হওয়া ফোন চীনে কিনে সেটি আবার ঢাকায়, প্র'তারিত বহু ব্যবসায়ী (ভিডিও) ◈ নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন ◈ সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি ◈ রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ককটেল সদৃশ বস্তু, ঘিরে রেখেছে এসআরবি-২ দল

প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০২ রাত
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইথানলের উৎপাদন বাড়লেও নেই চাহিদা, ৭০০ কোটি লিটার উদ্বৃত্ত নিয়ে বিপাকে ভারত

দ্য ইকোনোমিক টাইমস: ভারত জুড়ে ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ বাজার ও চাহিদা তৈরি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দেশটির ইথানল উৎপাদকরা। বর্তমানে বার্ষিক বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত ইথানল হাতে নিয়ে নতুন ক্রেতা এবং বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তারা। 

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে বার্ষিক ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি লিটারে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এতে আরও চারশত কোটি লিটার যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত এই বিশাল জ্বালানির সিংহভাগ ব্যবহারের পর্যাপ্ত জায়গা এখনো তৈরি হয়নি। বর্তমানে দেশটির বহুল আলোচিত ই-২০ পেট্রোল মিশ্রণ কর্মসূচির আওতায় বছরে প্রায় এক হাজার একশত কোটি লিটার ইথানল ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের বাইরে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পে আরও তিনশত থেকে সাড়ে তিনশত কোটি লিটার ইথানল ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সব খাত মিলিয়ে ব্যবহারের পরও দেশটির প্রায় সাতশত কোটি লিটার ইথানলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বেশি হওয়ায় ভারতীয় ইথানল কারখানাগুলো তাদের ক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। কারখানাগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী অন্তত তিন বছর এই সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজ্যভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, কেবল মহারাষ্ট্রেই উদ্বৃত্ত ইথানলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি লিটারে। ২০২৫-২৬ সরবরাহ বর্ষে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এক হাজার কোটি লিটার ইথানল সরবরাহের চুক্তি থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত সরবরাহ সম্ভব হয়েছে মাত্র ৮৯৫ কোটি লিটার।

উদ্বৃত্ত এই ইথানল সংকট নিরসনে উৎপাদকরা সরকারের দ্বারস্থ হলেও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে না। সরকার পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণের মাত্রা ই-২০ থেকে বাড়িয়ে ই-২৫ বা ই-৩০ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনে উচ্চমাত্রার ইথানল ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ই-২০ ব্যবহারের বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ অবস্থায় শিল্প বিশেষজ্ঞরা ব্রাজিল বা যুক্তরাষ্ট্রের আদলে নমনীয় জ্বালানি নীতির পরামর্শ দিচ্ছেন। উইলো ইন্ডিয়ার প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা রবীন্দ্র উতগিকর জানান, সবার জন্য একই মিশ্রণ বাধ্যতামূলক না করে জ্বালানির ধরন অনুযায়ী আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা উচিত, যাতে চালকেরা গাড়ির বয়স ও প্রযুক্তি বুঝে ই-১০, ই-২০ কিংবা ই-৮৫ জ্বালানি বেছে নিতে পারেন।

advertisement

অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতির মুখে আন্তর্জাতিক বাজারও ভারতীয় ইথানলের জন্য খুব বেশি সহায়ক হয়ে উঠতে পারেনি। প্রথম প্রজন্মের ইথানল রপ্তানিতে সরকারি বিধি নিষেধ থাকায় বিদেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার পর ভারত বর্তমানে তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং কেনিয়ার মতো কয়েকটি দেশে সামান্য পরিমাণ অ-জ্বালানি ইথানল রপ্তানি করছে। এছাড়া গ্রেইন ইথানল প্রস্তুতকারক সংস্থা বা জিইএমএ প্রতিবেশী দেশ নেপালে ইথানল সরবরাহের জন্য জোর আলোচনা চালাচ্ছে। নেপাল তাদের ব্যবহৃত পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করলেও সেখানে নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা না থাকায় ভারত এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়।

ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পেট্রোলের বাইরে ডিজেল চালিত যানবাহনে ইথানল থেকে প্রস্তুতকৃত বায়ো-আইসোবুটানল মেশানোর নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাঞ্জ ইন্ডিাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিস গাইকোয়াড় জানান, এই বায়ো-আইসোবুটানল প্রযুক্তি এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতে পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের ব্যবহার বহু গুণ বেশি হওয়ায় দিজেলে মাত্র দুই শতাংশ বায়ো-আইসোবুটানল মেশানো সম্ভব হলেও তা প্রায় তিন হাজার কোটি রুপিরও বেশি নতুন বাণিজ্যিক প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

বর্তমানে ভারতে অ-জ্বালানি খাতে মোট ইথানল চাহিদার প্রায় ১৮.৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহল বা ইএনএ-এর বাজার ২০২৫ সাল নাগাদ প্রায় ৩৮০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে, যা প্রতি বছর গড়ে পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পানীয় অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় এবং দেশি মদের বদলে উন্নত ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতের ব্যবহার কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো ইথানল কারখানাগুলোকে স্থায়ী অর্থনৈতিক লোকসান থেকে বাঁচাতে হলে সরকারকে দ্রুত নতুন নীতি গ্রহণ করে দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি পথ সহজ করতে হবে।

  • সর্বশেষ