জান্নাতুল ফেরদৌস : আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপুটে অভিনেতা আলমগীর। বাংলা সিনেমার চিরসবুজ নায়ক তিনি। সামাজিক, পারিবারিক, অ্যাকশন ও রোমান্টিক ধাঁচের সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। সব চরিত্রে দেখিয়েছেন মুনশিয়ানা। ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশে’র অন্যতম প্রযোজক ছিলেন তার পিতা কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া। চিত্রনায়ক আলমগীর অভিনেতা হওয়ার অনেক আগে থেকেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত। মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭২ সালের ২৪ জুন আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভূমি’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
‘দস্যুরাণী’ তার অভিনীত দ্বিতীয় ছবি। জিঞ্জীর (১৯৭৮) চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও সোহেল রানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। শাবানার সঙ্গে জুটি গড়ে ১২০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ১৯৭২ সালে অভিনয়ে এসে প্রায় চার দশকে ২৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, পরিচালক, উপস্থাপক ও গায়ক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন। ‘আগুনের আলো’ চলচ্চিত্রে প্রথম কণ্ঠ দেন। এরপর তিনি কার পাপে, ঝুমকা ও নির্দোষ চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন। প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন বেশ কয়েকটি সিনেমা। ১৯৮৫ সালে তিনি পরিচালনা শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। ছবির নাম ‘নিষ্পাপ’। ১৯৯৪ সালে তার পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘নির্মম’ মুক্তি পায়।
২০১৮ সালে তার পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘একটি সিনেমার গল্প’ মুক্তি পায়। সুদর্শন এই অভিনেতা তার চমৎকার অভিনয়ের জন্য অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮৫ সালে প্রথম ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পাওয়ার রেকর্ড নায়ক আলমগীরেরই আছে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ টানা ৪ বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছিলেন, যা আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। এছাড়া ২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। এর বাইরে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার, টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড-আজীবন সম্মাননা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আলমগীর।