শিরোনাম
◈ বিশ্বকাপের অনুশীলনে ঘাসের মধ্যে বিষধর কপারহেড সাপ, আতঙ্কে জার্মান ফুটবল দল ◈ বড় বিনিয়োগে বদলাচ্ছে পতেঙ্গা টার্মিনাল, আসছে ৩০ মিলিয়ন ডলারের চার এসটিএস ক্রেন ◈ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউটে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ◈ অবৈধ প্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’, নতুন আইনে কড়াকড়ি ইউরোপের ◈ পাকিস্তানের ভেতরে আফগানিস্তানের বিমান হামলা, নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা সীমান্তে! ◈ পুলিশের ইউনিফর্মে ফের পরিবর্তন, গাঢ় নীল-জলপাই রঙে ফিরছে পুরোনো পোশাক ◈ বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগে উদ্বিগ্ন ভারত, বাড়ছে চীনা কৌশলগত প্রভাবের শঙ্কা ◈ ব্রহ্মপুত্রে চীনের বিশাল বাঁধ প্রকল্প, নিরাপত্তা ও পানিপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কায় ভারত! ◈ বাংলাদেশে হি'ন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ করবো : চৈতালী চক্রবর্তী (ভিডিও) ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে গিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে শুভেন্দু সরকার

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬, ০৭:১৯ সকাল
আপডেট : ২০ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুখ কিনতে না পারলেও দুশ্চিন্তা কমায় টাকা

শাং সাভেদ্রা ছিলেন একটি অভিবাসী পরিবারের কাছে স্বপ্নের মতো। তিনি চমৎকার ফলাফল করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। স্নাতক শেষ করার পর তার আয় ছিল বছরে ছয় অঙ্কের ঘরে (লাখ ডলারের বেশি)। তিনি খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং প্রতি বছর অন্তত ২০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতেন। এরপর তিনি বিজনেস স্কুলে পড়েন, বিয়ে করেন এবং সংসার শুরু করেন। কিন্তু এই সবকিছুর চাপের নিচে তিনি পিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলেন।

শাং সাভেদ্রার জন্ম চীনের এক গ্রামে। ১০ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে চলে যান। অতীতের স্মৃতিচারণা করে সাভেদ্রা বলেন, ‘আমার মা-বাবা সব সময় আমাকে পড়াশোনার এমন এক স্তরের সঙ্গে তুলনা করতেন, যা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মাথার ভেতর সারাক্ষণ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেত—আমি কি কখনও সফল হিসেবে গণ্য হবো? আমার পড়াশোনার পেছনে তারা যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছেন, আমি কি তার সঠিক প্রতিদান দিতে পারব?’

বিশের কোঠার শেষের দিকে এই উদ্বেগগুলো তার সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিশেষ করে তার দাম্পত্যজীবনে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

সাভেদ্রা বলেন, ‘আমি সারাক্ষণ অভিযোগ করতাম যে আমি কতটা মানসিক চাপে আছি। বসের মন রক্ষা করতে পারছি কি না কিংবা পদোন্নতি পাব কি না—এসব নিয়েই আমি চিন্তিত থাকতাম। আমি জীবনের অনেক প্রাপ্তিকেই অবহেলা করছিলাম।’

বর্তমানে ৪০ বছর বয়সি সাভেদ্রা থেরাপির মাধ্যমে নিজের চিন্তার ধরন বদলে ফেলেছেন। তিনি বুঝতে পারেন, তার পুরোনো চিন্তার ধরনই তাকে সাফল্যের আনন্দ উপভোগ করতে দিচ্ছিল না। একসময় তিনি করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে দেন।

এখন তিনি ‘মানি কোচ’ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি গ্রাহকদের অর্থ সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণাগুলো বদলে দিতে সাহায্য করেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত তার বই ‘ওয়েলথ ইজ আ মাইন্ডসেট’ মূলত তার জীবনকাহিনি এবং তার জীবনদর্শনের একটি নির্দেশিকা।

আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ, সামাজিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব এবং বিলাসিতার শখ পূরণ করা নিয়ে সাভেদ্রার সঙ্গে কথা বলেছে বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

অর্থ নিয়ে মনের ভয় কাটানোর বিষয়ে সাভেদ্রা একটি চমৎকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অভাবের চিন্তা বাদ দিয়ে প্রাচুর্যের চিন্তা করা শিখতে হবে। সাভেদ্রার মতে, ‘আমি যখন হীনম্মন্যতায় ভুগতাম, তখন একজন আমাকে বলেছিলেন, ‘কাজে যেতে হবে’ না বলে বলুন ‘আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি’।

আপনার একটি চাকরি আছে, এই জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। ‘ঘর পরিষ্কার করতে হবে’ না বলে ভাবুন ‘আমি থাকার জায়গা পেয়েছি বলেই আজ তা পরিষ্কার করার সুযোগ পাচ্ছি’। তিনি মনে করেন, এই ছোট্ট পরিবর্তনটি মানুষকে অনেক বেশি ইতিবাচক করে তোলে।

সাভেদ্রা বিশ্বাস করেন, অর্থ নিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা থেকেই মূলত সম্পদ আসে। তার মতে, মন যদি সুস্থ ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকে, তবে টাকা পরিচালনার প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোও অনেক সহজে আয়ত্ত করা যায়।

গ্রাহকদের আর্থিক দুশ্চিন্তা কমাতে তিনি প্রথমে কী করেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন সাভেদ্রা। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে গ্রাহকের পুরো অবস্থার একটি চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করি। আপনার আয় কত এবং মাসে কত খরচ হচ্ছে, সেই হিসাবটা প্রথমে বের করি। কারণ, বেশির ভাগ মানুষ খরচের কোনো হিসাব রাখেন না। এই চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে গেলে আমি উল্টো দিক থেকে কাজ শুরু করি।’

মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর পর হাতে বাস্তবসম্মতভাবে কত টাকা থাকছে, তা বের করাই সাভেদ্রার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘হাতে থাকা বাড়তি টাকা দিয়ে কীভাবে দ্রুত ঋণ শোধ করা যায় কিংবা ভবিষ্যতের জন্য জমানো শুরু করা যায়, আমি সেই পরামর্শই দিই।’

সাভেদ্রা মনে করেন, অধিকাংশ মানুষের প্রথম কাজ হলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এই লক্ষ্য হতে পারে ঋণমুক্ত হওয়া অথবা কোনো জরুরি তহবিল (ইমারজেন্সি ফান্ড) গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি লক্ষ্যে স্থির হই এবং অন্তত তিন মাস সেই পরিকল্পনা মেনে চলার চেষ্টা করি।’

নতুন অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য তিন মাস বেশ ভালো সময়। সাভেদ্রার মতে, একবার এই অঙ্গীকার করা হয়ে গেলে টাকা জমানোর আরও অনেক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়।

মানসিক বিষণ্নতা ও উদ্বেগ কীভাবে সম্পদ গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এই প্রশ্নের জবাবে সাভেদ্রা তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মানুষ স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে পারে না। ফলে লক্ষ্য ঠিক করা বা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ ব্যক্তিগত অর্থায়নের ক্ষেত্রে সবসময়ই এমন অনিশ্চয়তা থাকে।’

সাভেদ্রা নিজেও একসময় বিষণ্নতা ও উদ্বেগের লক্ষণে ভুগেছেন। তিনি মনে করেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ওষুধ, থেরাপি বা গ্রুপ থেরাপির মাধ্যমে সাহায্য নেওয়া খুবই জরুরি। তিনি বলেন, ‘মন শান্ত রাখতে এবং সারা দিন সতেজ থাকার শক্তি পেতে আমি ওষুধ সেবন করি। এ ছাড়া নিয়মিত থেরাপিস্টের সঙ্গে দেখা করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও আমার সুস্থ থাকার বড় মাধ্যম।’

তবে থেরাপি বেশ ব্যয়বহুল। এ বিষয়ে গ্রাহকদের সাভেদ্রার পরামর্শ হলো, ‘আমাদের মস্তিষ্ক আর শরীর তো একটিই। যদি কোথাও টাকা খরচ করতেই হয়, তবে নিজের শরীর ও মনের সুস্থতার পেছনে খরচ করাই হবে সবচেয়ে সেরা বিনিয়োগ।’ তাই তিনি তার গ্রাহকদের বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।

অধিকাংশ স্বাস্থ্যবীমাতেই এখন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে বিমার আওতাভুক্ত সঠিক বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। অনেক মনোবিজ্ঞানী মানুষের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফি নির্ধারণ করেন। এমনকি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোও এখন মানসিক স্বাস্থ্যের নানা বিষয়ে পরমর্শ সভা বা ক্লাসের আয়োজন করে।

শাং সাভেদ্রার জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

১. ইতিবাচক মানসিকতাই আসল: ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হওয়ার প্রথম ধাপ হলো টাকা নিয়ে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা।

২. আপনি একা নন: টাকা-পয়সা নিয়ে টানাপোড়েনে ভোগেন অধিকাংশ মানুষ। এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে এবং একাকীত্ব কাটাতে বিভিন্ন সামাজিক বা কমিউনিটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হোন।

৩. চিকিৎসা খরচে কর ছাড়: প্রজনন বা আইভিএফ (IVF) চিকিৎসার জন্য টাকা জমাতে চাইলে ‘হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করুন। এতে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়।

৪. বাড়ি কেনা বনাম ভাড়া: সবসময় বাড়ি কেনাই সেরা আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়। পরিস্থিতিভেদে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক হতে পারে।

সাভেদ্রা মনে করেন, মানুষের সঙ্গে মিশলে বোঝা যায় যে অনেকেই আপনার মতো একই সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই একটি ‘মায়েদের দলে’ যুক্ত আছি। মা হওয়ার পর আমি যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, সেখানে সেগুলো নিয়ে কথা বলি। মানুষের সঙ্গে কথা বললে এবং বন্ধুত্ব করলে মনে সাহস পাওয়া যায়।’

টাকা নিয়ে ভাবনা ও মিতব্যয়িতা

সাভেদ্রার কাছে টাকা নিয়ে তার ছোটবেলার ভাবনা ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি স্রেফ ধনী হতে চাইতাম। কিন্তু বিশের কোঠার শেষের দিকে আমার ভাবনায় পরিবর্তন আসে। আমি তখন স্বাধীনতার গুরুত্ব বুঝতে শিখি। আমি চেয়েছিলাম তাড়াতাড়ি অবসরে যেতে, যাতে আমার সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি।’

সাভেদ্রা এখনও বেশ মিতব্যয়ী জীবনযাপন করেন। এর পেছনে তার দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, তিনি তার সন্তানদের সামনে একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করতে চান। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের দেখা উচিত যে তাদের মা-বাবা কীভাবে অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা করছেন। আমি ইচ্ছা করেই ঘরের কাজগুলো নিজে করি, যাতে তারা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এসব দক্ষতা শিখতে পারে।’

দ্বিতীয় কারণটি হলো তার ধর্মীয় বিশ্বাস। সাভেদ্রা বলেন, ‘আমি আমার সম্পদকে স্রেফ নিজের বলে ভাবি না। আমি মনে করি, আমি এই সম্পদের একজন ব্যবস্থাপক মাত্র এবং আমি তা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারি। আমি এবং আমার স্বামী আমাদের আয়ের ১০ শতাংশ বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থাকে দান করি। এ ছাড়া আমি অনেককে বিনামূল্যেও আর্থিক পরামর্শ দিই।’

অভ্যাস পরিবর্তনের কৌশল

ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাভেদ্রা ‘ট্রিগার, অ্যাকশন ও রিওয়ার্ড’ কৌশলের কথা বলেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন—বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন মানুষের আর্থিক সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তোলে।

সাভেদ্রা তার এক গ্রাহকের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার এক গ্রাহক যখনই অফিসে একঘেয়েমি অনুভব করতেন, তখনই অনলাইনে কেনাকাটা শুরু করতেন।

যদিও তার কেনাকাটা করার মতো পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। এখানে তার একঘেয়েমি ছিল ট্রিগার আর কেনাকাটা ছিল অ্যাকশন। এর ফলে তিনি সাময়িকভাবে আনন্দ পেতেন, যা ছিল রিওয়ার্ড।’ সাভেদ্রা তাকে কেনাকাটার বদলে নতুন নতুন চাকরির আবেদন করার পরামর্শ দেন। এতে তার সেই কেনাকাটার অভ্যাস বদলে যায়।

আইভিএফের ব্যয় ব্যবস্থাপনা

সাভেদ্রার প্রতিটি সন্তানই আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই পদ্ধতিতে সন্তান নিতে গড়ে প্রায় ৬১ হাজার ডলার খরচ হয়। সাভেদ্রা বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান ছিলাম যে আমার কর্মস্থল থেকে প্রজনন সুবিধার বিমা পেতাম। বাকি টাকা আমরা নিজেরা সঞ্চয় করেছি।

আমি আমার গ্রাহকদের বলি, প্রয়োজনে অবসরের জন্য জমানো টাকা কমিয়ে সন্তান নেওয়ার জন্য টাকা জমান। কারণ, সন্তান নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স বা সময় থাকে।’ তিনি উচ্চ-ডিডাক্টিবল বীমা থাকলে এইচএসএ অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেন, যাতে করমুক্ত উপায়ে টাকা জমানো যায়।

আর্থিক ভুল ও সেরা কেনাকাটা

সাভেদ্রার মতে, তার জীবনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ভুল ছিল বাড়ি কেনা। তিনি বলেন, ‘আমি দুবার বাড়ি কিনেছি, কিন্তু কোনোবারই লাভ করতে পারিনি। অনেকে মনে করেন বাড়ি কিনলেই লাভ হবে, কিন্তু সবসময় তা সত্য নয়।’

অন্যদিকে তার জীবনের সেরা কেনাকাটা ছিল ৪০তম জন্মদিনে কেনা একটি ‘লুই ভুতোঁ’ ব্র্যান্ডের হ্যান্ডব্যাগ। ৩ হাজার ডলারের এই ব্যাগটি নিয়ে সাভেদ্রা বলেন, ‘এটি ছিল একটি প্রতীক যে আমি এখন আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল। এই ব্যাগটি কেনার পর বিলাসদ্রব্যের প্রতি আমার মোহ কেটে গেছে। আমার এখন আর নতুন কোনো ব্যাগ কেনার ইচ্ছা নেই।’

সুখ ও অর্থের সম্পর্ক

অনেকেই মনে করেন টাকা বাড়লে সুখ বাড়ে। সাভেদ্রা মনে করেন, টাকা মানুষের নিরাপত্তা দেয় এবং দুশ্চিন্তা কমায়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর টাকা মানুষকে আর বাড়তি সুখ দিতে পারে না।

সাভেদ্রার মা-বাবা তাকে টাকা নিয়ে একটি দারুণ উপদেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা বলতেন, ‘যদি টাকা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায়, তবে সেটি আসলে খুব বড় কোনো সমস্যা নয়।’ এর মানে হলো, টাকার চেয়েও মূল্যবান বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। যেমন—দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো রাখা এবং সন্তানদের সময় দেওয়া। কারণ এসব বিষয় টাকা দিয়ে কেনা যায় না।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়