শিরোনাম
◈ পাকিস্তানের ভেতরে আফগানিস্তানের বিমান হামলা, নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা সীমান্তে! ◈ পুলিশের ইউনিফর্মে ফের পরিবর্তন, গাঢ় নীল-জলপাই রঙে ফিরছে পুরোনো পোশাক ◈ বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগে উদ্বিগ্ন ভারত, বাড়ছে চীনা কৌশলগত প্রভাবের শঙ্কা ◈ ব্রহ্মপুত্রে চীনের বিশাল বাঁধ প্রকল্প, নিরাপত্তা ও পানিপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কায় ভারত! ◈ বাংলাদেশে হি'ন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ করবো : চৈতালী চক্রবর্তী (ভিডিও) ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে গিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে শুভেন্দু সরকার ◈ বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করছে চীন, দুশ্চিন্তায় ভারত ◈ দেশে হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১,০৭৮ জন ◈ আর্জেন্টিনার বিরু‌দ্ধে ম‌্যাচ ভীষণ কঠিন হবে: অষ্ট্রিয়া কোচ

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ রাত
আপডেট : ২০ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ব্রহ্মপুত্রে চীনের বিশাল বাঁধ প্রকল্প, নিরাপত্তা ও পানিপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কায় ভারত!

এনডিটিভি: তিব্বতে উৎপন্ন হওয়া এই ইয়ারলুং সাংপো নদীটি অরুণাচল প্রদেশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ‘সিয়াং’ নাম ধারণ করেছে। এরপর আসামের ওপর দিয়ে ‘ব্রহ্মপুত্র’ হয়ে প্রবাহিত এই নদীটি কোটি কোটি ভারতীয়র জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সরকার এই প্রকল্পের ওপর কড়া নজর রাখছে।

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত) নদীর ভাটি অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন। ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে এই বিশাল বাঁধ নির্মাণের গতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নয়াদিল্লির জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্রে এই তৎপরতার প্রমাণ মিলেছে। সীমান্ত নদীগুলোর উজানে এমন বিশাল বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির দেশগুলোতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেগা বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে এবং পলিমাটি জমে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে ভাটি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা খরা সৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া, কৌশলগতভাবে এই বাঁধের মাধ্যমে নদী নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বেইজিংয়ের হাতে চলে গেলে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বিরোধের সময় চীন অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।

অবশ্য বেইজিং বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য কেবলই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং এর ফলে ভারতসহ ভাটির অন্য কোনো দেশের ক্ষতি হবে না। তবে নয়াদিল্লি এই আশ্বাসে হাত গুটিয়ে বসে নেই। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সংসদে জানিয়েছেন যে সরকার কয়েক দশক ধরেই এই প্রস্তাবিত মেগা বাঁধের ওপর নজর রাখছে, যার পরিকল্পনা চীন ১৯৮৬ সালেই প্রকাশ করেছিল। ভারতের স্বার্থ এবং সীমান্ত এলাকার নাগরিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকার সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নদীকেন্দ্রিক এই বিরোধপূর্ণ বিষয়টি ২০০৬ সালে গঠিত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে চীনের কাছে বারবার তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে জানান।

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি, এই বাঁধের কারণে ভবিষ্যতে কোনো বিপর্যয় নেমে আসলে তা মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়