শিরোনাম
◈ দেশ ও মানুষের কল্যাণে মানবিকতা নিয়ে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জামায়াত, ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী চূড়ান্ত হবে রোববার ◈ কানাডায় ভারতীয়দের ওপর কড়াকড়ি, ৬ মাসে বহিষ্কার ৩,৩২৩ ◈ বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির খসড়া নীতিমালা নিয়ে আলোচনাকে 'কাল্পনিক ও অসত্য' বলল সরকার ◈ বাংলাদেশে প্রথমবার চালু হচ্ছে ই-ভিসা, ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে মিলবে ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা ◈ ‘যৌন ডাক্তার’ বলে অপপ্রচার, ফেসবুকে নিজের নামে প্রতারণামূলক ১৬০ বিজ্ঞাপনের অভিযোগ তাসনিম জারার ◈ সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম: তদন্তে উঠে এসেছে যাদের নাম ◈ ৪ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায় ৮০০ ই-বাস কিনছে সরকার ◈ এবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ফিফা সভাপ‌তির বিরুদ্ধে  ◈ অ‌ক্টোব‌রে ব্রা‌জিল ৯০ জনের দল নিয়ে কলকাতায় আসছে!

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩, ০২:২৭ রাত
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩, ০২:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাধা, ঘোড়া এবং পিএইচডি

সুজিত মোস্তফা

সুজিত মোস্তফা: আমার বাবা প্রয়াত আবু হেনা মোস্তফা কামালের মতো উন্মুক্তমনা মানুষকেও দেখেছি পাকিস্তানের ব্যাপারে তার ভীষণ এলার্জি ছিলো। যদিও পাকিস্তানের মেহেদী হাসান, গোলাম আলি, ফারিদা খানম এদের গান তিনি পছন্দ করতেন। কিন্তু বলতেন যে এরা ব্যতিক্রমী। আবার সেই বাবা বাংলা একাডেমির ডিজি থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী আব্দুস সালামের পাঠানো একটি চিঠি পড়ে তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন বাসায় আমাদের কাছে। তিনি বলেছিলেন, বিশ্বখ্যাত এই লোকটির এমন কোনো ডিগ্রি নেই যা পাওয়া বাকি আছে। অথচ তিনি নীচে তার নাম শুধু আব্দুস সালাম লিখে নাম স্বাক্ষর করেছেন। এখানে তিনি ডক্টর, প্রফেসর, নোবেল লরেট এসবের কিছুই লেখেননি। প্রকৃত শিক্ষিত বোধহয় একেই বলে। 

আব্বা কোনো সময় নামের আগে ডক্টর লিখতেন না। এই বিষয়ে তাকে একদিন জিজ্ঞেস করায় বলেছিলেন, ডক্টর কি আমার বাপের দেওয়া নাম? আজকাল পিএইচডি প্রাপ্তদের বেশির ভাগ নামের আগে ডক্টরেট না লিখলে মনে করেন যে তাদের যেন পরিচয় দেওয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে না। অথচ এই পিএইচডির মধ্যে আজকাল কতো ভেজাল। আমি সংগীতের উপরে একটি পিএইচডি থিসিস পড়ে দেখেছি যে এটির গবেষকের ম্যাট্রিক পরীক্ষাটাও ঠিক মতন পাস করার যোগ্যতা নাই। এই মুহূর্তে পিএইচডি বিষয়টির বড়ই খারাপ অবস্থা চলছে দেশে। কারণ এতবেশি প্লেজিয়ারিজম, এতো বেশি অন্যায়, এতো বেশি তেলমর্দন করে এগুলো হচ্ছে যে মান একদম পড়ে গেছে। ধরে নিতে পারি যে ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে মান ভালো ছিল। অথচ সেই সময় প্রায় ৩৫ বছর আগে বাবার কাছে শোনা একটি গল্প মনে হলে আমি এখনো হাসি। 

অর্থাৎ ওই সময়কার পিএইচডি নিয়েও তার কী রকম অবজারভেশন ছিলো, এই গল্পে তিনি সেটাই প্রকাশ করেছেন। গল্পটা ছিলো এরকম। ফরাসি দেশে এক লোক ঘোড়ায় চড়ে যেতে যেতে রাস্তার পাশে দেখল এক লোক বিশাল সব বই, ফাইলপত্র নিয়ে বসে আছে। তো তাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ভাই আপনি কি করছেন? লোকটি জবাব দিল আমি পিএইচডি বিক্রি করছি। তিনি বললেন, পিএইচডি আবার বিক্রি হয় নাকি? লোকটি বললো, হ্যাঁ আপনি পাঁচ হাজার ফ্রাঁ দিলে একটি পিএইচডি করতে পারবেন। তিনি কৌতূহলী হয়ে ৫০০০ ফ্রাঁ দিয়ে নিজের জন্য একটি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে চলে গেলেন। খানিক দূর যাওয়ার পরে তার মনে হলো যে পাঁচ হাজার ফ্রাঁ দিয়ে যদি একটি পিএইচডি করাই যায়, তাহলে তিনি তার ঘোড়ার জন্য কেন একটি পিএইচডি নেবেন না? তিনি আবার ঘুরে আসলেন এবং বললেন যে, ভাই আমি আরো ৫ হাজার ফ্রাঁ দিচ্ছি, আমার ঘোড়াকে একটি পিএইচডি দিন। সে লোকটি মুচকি এসে বললো, না না ভাই এটা তো ঘোড়াকে দেওয়া যাবে না, এটা শুধু গাধাদের দেওয়া হয়। এরকম গাধা পিএইচডি প্রাপ্তদের সংখ্যা বোধ হয় দেশে এখন অনেক এবং তারা তাদের নামের আগে ডক্টরেট লিখে বড়ই আনন্দে আছেন বলেই মনে হয়। লেখক: সংগীতশিল্পী।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়