মনিরুল ইসলাম : ঢাকার কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদির–এর স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার পর সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু এক পোস্টে হামলার নিন্দা জানিয়ে একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তার পোস্টে তিনি বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে তদন্ত শুরুর আগেই কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করা হলে সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য—সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে সামাজিক মাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে, তার পক্ষে কী প্রমাণ আছে—তা জানতে চান তিনি।
ইথুন বাবু তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে দিতে হবে এবং প্রমাণ সামনে আসার পরই দায় নির্ধারণ করা উচিত।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হবে কি না। তার মতে, “অভিযোগ করা সহজ, কিন্তু প্রমাণ দেওয়াটাই আসল পরীক্ষা”—এ কারণে ফুটেজ প্রকাশ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগের প্রবণতা বাড়লেও, যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে ভুল বা অপ্রমাণিত তথ্য কখনও কখনও বাস্তব জীবনে উত্তেজনা ও সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগ–প্রতিআরোপের এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে স্বচ্ছ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।