মনিরুল ইসলাম : সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থেকেও প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার বলয় ভেঙে হাজারো নেতাকর্মীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালিতে অংশ নিয়ে জনতার সঙ্গে রাজপথে হাঁটেন তিনি।
আজ শনিবার ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় এক ঘণ্টা পথ হেঁটে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আশপাশের উঁচু ভবনের জানালা ও ছাদ থেকেও নারী-পুরুষ ও শিশুদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীও হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।
পুরো পথ নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে অতিক্রম করেন তিনি। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিরাপত্তা ও প্রটোকলের প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে এভাবে দীর্ঘ পথ হাঁটা র্যালিতে সৃষ্টি করে ভিন্ন আবহ।
র্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনসংলগ্ন সড়ক, রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বাসসকে বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর পুরো র্যালিতে হেঁটে অংশ নেওয়ার এমন দৃশ্য বাংলাদেশে নজিরবিহীন। গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণের অভিযাত্রায় এ দৃশ্য দেশবাসীকে উজ্জীবিত করবে বলে তিনি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিতে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
র্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক র্যালিতে অংশ নেন।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
র্যালিকে কেন্দ্র করে দুপুর ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
র্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে র্যালিটি বর্ণিল রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ লন্ডনে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিলেও বিএনপির দলীয় র্যালিতে তাঁর এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই র্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণ তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।