শিরোনাম
◈ ‘ক্রসফায়ার’ শব্দ ব্যবহারে আইজিপিকে সতর্ক করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু, উদ্বোধনী দিনেই ছয়টি নতুন রেকর্ড ◈ ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, অধিবেশন স্থগিত করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মেয়াদ শেষের পথে গঙ্গা চুক্তি, সাড়া নেই ভারতের ◈ বাংলাদেশ-নেপালের পর ইউরোপজুড়ে জেন-জি আন্দোলন, ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন হারানোর ক্ষোভে রাজপথে তরুণেরা ◈ এবার এক নারীর সঙ্গে নাটোর-৪ আসনের এমপি আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল! ◈ অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে সেশেলসকে হারালো বাংলাদেশ ◈ এশিয়া কাপ আর্চারিতে কাজাখস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় ◈ সেঞ্চুরির দুয়ারে সাদমান, দাপুটে দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৮ রাত
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম : ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ঢাকা শহরকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জাপানের রাজধানী টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। অথচ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা চলছে। বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের মান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তায় আবর্জনার কারণে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি এবং দূষিত বাতাসের কারণে অসুস্থতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Advertisement

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি টোকিওর মতো করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি, তাহলে সেটি হবে বড় একটি সংস্কার।’

প্রান্তিক মানুষের কল্যাণই সংস্কারের অগ্রাধিকার

সংস্কারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সেই সংস্কারকেই গুরুত্ব দেন, যার সুফল দেশের প্রান্তিক মানুষটিও পায়। সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে—এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু সংস্কারের সুফল সীমিতসংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে তাঁর অগ্রাধিকার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা, যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী লাভবান হয়।

এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষের সমর্থন পেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সংস্কার বাস্তবায়নে সমর্থন চাইলেন প্রবাসীদের

সাধারণ মানুষের কল্যাণে নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার যাতে জনগণের উপকারে আসবে—এমন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। তাই এসব উদ্যোগের প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে সমর্থন দেন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’

এ সময় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। এসব উদ্যোগ সফল করতে পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্য প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।

বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করতে চায় বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী সঞ্চালনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

তথ্য সূত্র : বাসস

  • সর্বশেষ