শিরোনাম
◈ চতুর্থ বিভাগের ক্লাবের কাছে টাইব্রেকারে ধরা আর্সেনাল ◈ যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা: কোন কাজ করা যাবে, জানাল দূতাবাস ◈ ইউএইতে জনতা ব্যাংকের ৪ শাখা বন্ধের শঙ্কা, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চায় পর্ষদ ◈ রপ্তানি বাড়াতে চীনের ৬ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ ◈ ৩১ অক্টোবর থেকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু, মানতে হবে নতুন নিয়ম ◈ ‘ক্রসফায়ার’ বিতর্কের পর নতুন আইজিপি নিয়োগ নিয়ে ভাবছে সরকার, বিবেচনায় যে ৩ কর্মকর্তা ◈ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা ◈ মেলিওডোসিসে মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ২ জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ◈ বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ 'আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে' 

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৩২ দুপুর
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জমির খতিয়ান নম্বর জানা নেই? খুঁজে পাবেন যেভাবে

জমির মালিকের নাম জানা থাকলে ঘরে বসেই অনলাইনে খতিয়ান ও জমিসংক্রান্ত তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে জমির অবস্থান, মৌজা ও জরিপের ধরন নির্বাচন করতে হবে। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও পোর্টালে ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ সুবিধা থাকলে মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজ করা যায়।

জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির হিসাব যাচাই কিংবা নিজের জমির রেকর্ড খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই সেবা কাজে লাগে। তবে একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নামের ওপর নির্ভর না করে পিতার নাম, মৌজা, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখা জরুরি।

কোন ওয়েবসাইটে পাবেন জমির তথ্য?

জমির খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টাল ব্যবহার করা যায়।

Advertisement

সরকারি ওয়েবসাইট: dlrms.land.gov.bd

পোর্টালে প্রবেশের পর প্রয়োজন অনুযায়ী সার্ভে খতিয়ান অথবা নামজারি খতিয়ান নির্বাচন করতে হবে। এরপর জমির অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে।

সার্ভে খতিয়ান ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা রেকর্ড। অন্যদিকে, জমি ক্রয়, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি রেকর্ড হালনাগাদের প্রক্রিয়ায় নামজারি খতিয়ান তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ধরনের রেকর্ড নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

মালিকের নাম দিয়ে জমির তথ্য বের করার নিয়ম

প্রথম ধাপ: সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারিত বিভাগে যান।

দ্বিতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন

জমিটি যে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানায় অবস্থিত, সেগুলোর নাম নির্বাচন করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজার তথ্য দিন। সঠিক মৌজা নির্বাচন করা জরুরি, কারণ একই ব্যক্তির নামে বিভিন্ন এলাকায় জমি থাকতে পারে।

তৃতীয় ধাপ: খতিয়ানের ধরন বেছে নিন

প্রয়োজন অনুযায়ী সার্ভে খতিয়ান অথবা নামজারি খতিয়ান নির্বাচন করুন। সার্ভে খতিয়ান খুঁজলে সংশ্লিষ্ট জরিপের ধরনও সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ ব্যবহার করুন

খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ অপশন খুঁজুন। পোর্টালে এই সুবিধা থাকলে মালিকের নাম অথবা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

নাম লেখার সময় বানান ঠিক রাখুন। পুরোনো রেকর্ডে নামের বানান বা পিতার নামের তথ্য বর্তমান নথির সঙ্গে কিছুটা আলাদা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য পরিচিতিমূলক তথ্যও মিলিয়ে দেখুন।

পঞ্চম ধাপ: পাওয়া রেকর্ড যাচাই করুন

অনুসন্ধানের পর এক বা একাধিক খতিয়ান পাওয়া গেলে মালিকের নাম, পিতার নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ যাচাই করুন। শুধু নাম মিলে গেলেই সেটি আপনার খোঁজা জমির রেকর্ড বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

প্রয়োজনীয় রেকর্ড পাওয়া গেলে সেটির বিস্তারিত তথ্য দেখুন। খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করতে হলে পোর্টালে প্রদর্শিত আবেদন ও ফি-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

জমির মালিকের নাম ছাড়া আর কী তথ্য লাগবে?

শুধু মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা গেলেও কিছু অতিরিক্ত তথ্য জানা থাকলে সঠিক জমি শনাক্ত করা সহজ হয়। যেমন—

  • জমির অবস্থান: বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা এবং মৌজার নাম।
  • মালিকের পরিচয়: পূর্ণ নাম ও পিতার নাম।
  • দাগ নম্বর: সংশ্লিষ্ট জমির দাগ নম্বর জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হতে পারে।
  • খতিয়ানের ধরন: সিএস, এসএ, আরএস, বিএস অথবা প্রযোজ্য অন্য জরিপের রেকর্ড।
  • পুরোনো কাগজপত্র: দলিল, আগের পর্চা, খতিয়ান বা ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ।

সব তথ্য একসঙ্গে জানা বাধ্যতামূলক নয়। তবে জমির অবস্থান ও মৌজার তথ্য সঠিকভাবে জানা থাকলে একই নামের একাধিক ব্যক্তির রেকর্ডের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

অনলাইনে জমির তথ্য না পেলে কী করবেন?

মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করেও খতিয়ান না পেলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না যে ওই ব্যক্তির নামে জমি নেই। নামের বানান, মৌজা, জমির অবস্থান অথবা জরিপের ধরনে ভুল থাকলে রেকর্ড খুঁজে পেতে সমস্যা হতে পারে।

প্রথমে তথ্যগুলো আবার যাচাই করুন। এরপর দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন। পুরোনো দলিল বা পর্চা থাকলে সেখান থেকে মৌজার নাম, খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর মিলিয়ে নিতে পারেন।

তারপরও তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় অথবা জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করুন। জমির অবস্থান ও রেকর্ডের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অফিস ভিন্ন হতে পারে।

এ ছাড়া চলমান ভূমি জরিপের খসড়া রেকর্ড এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান এক নয়। তাই অনলাইনে পাওয়া কোনো রেকর্ড খসড়া কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত?

না। খতিয়ানে কারও নাম থাকা জমির রেকর্ড যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও শুধু খতিয়ান দেখে সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত করা যায় না।

মালিকানা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলিল, উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পাওয়ার কাগজপত্র, নামজারি খতিয়ান, জমির দাগ ও পরিমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জমিটি একাধিকবার হস্তান্তর হয়ে থাকলে আগের দলিলগুলোও যাচাই করতে হতে পারে।

জমি কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয়, জমি বিক্রির বৈধ অধিকার, বাস্তব দখল, রেকর্ড ও দলিলের মধ্যে সামঞ্জস্য এবং কোনো মামলা বা বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজনে ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার সহায়তা নিন।

জমির মালিকের নাম দিয়ে অনলাইনে তথ্য খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টালে সঠিক এলাকার তথ্য নির্বাচন করে অনুসন্ধান করা। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজার সুযোগ থাকতে পারে। তবে সঠিক জমি শনাক্ত করা এবং মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলিল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা জরুরি।

সূত্র : যুগান্তর 

  • সর্বশেষ