শিরোনাম
◈ ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস; ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপের লক্ষ্য ◈ জেলখানায় গণ্ডগোলের ছকে আ.লীগ, শেখ হাসিনাকে নিয়ে নতুন গোলমালে দিল্লি ◈ স্ক্যামার নাকি ভিকটিম? 'স্ক্যাম সিটি'র অন্ধকার দুনিয়া, মিয়ানমারের সাইবার ক্রীতদাসদের গল্প (ভিডিও) ◈ ৩৫ টাকায় সিনেমার পোস্টার আঁকা থেকে জাতীয় পুরস্কার, আয়ের ৯০ শতাংশ দান: সাদাসিধে জীবনযাপনে নানা পাটেকরের বিদায় ◈ ভারতে চলমান আন্দোলনে সরাসরি মাঠে নামছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি (ভিডিও) ◈ ক‌ঠিন শ‌র্তে ৩৩০ কো‌টি ডলার বি‌দে‌শি ঋণ নি‌চ্ছে সরকার ◈ মারা গে‌ছেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ◈ ফ্রান্সে ভয়াবহ ছাত্র বিক্ষোভের ম‌ধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, দেশ দখল করতে চাইছে ইসলাম ◈ নামিবিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ লিগ-২ চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র ◈ একজন ক্রিকেটার নি‌য়ে দিবাস্বপ্ন দেখ‌ছেন, নির্বাচকদের উপর ক্ষেপ‌লেন অ‌স্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন

প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৩ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

মুগদা হাসপাতালে রোগীসেবা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

মনিরুল ইসলাম : মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীসেবা আরও উন্নত ও সম্প্রসারণে সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

আজ বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর  মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূবালী ব্যাংক পিএলসির পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া একটি মাইক্রোবাস হস্তান্তর এবং কালেকশন বুথ ও ইলেকট্রনিক্স বুথ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পূবালী ব্যাংকের দেওয়া মাইক্রোবাস ও বুথ হাসপাতালের সেবাকে আরও গতিশীল করবে। বিশেষ করে অনলাইন সুবিধার ফলে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নেওয়ার ভোগান্তি কমবে।

তিনি আরও বলেন, নিট গ্রুপও হাসপাতালকে একটি ভ্যান দিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় কাজে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Advertisement

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে হাবিবুর রশিদ বলেন, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে হাসপাতালটি দেশের রোগীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা-৯ এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য মুগদা হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। মানুষের প্রত্যাশা, স্বল্প খরচে এবং নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে তাঁদের দায়বদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সেখানে মুগদা হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালটির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় মুগদা হাসপাতালের ভূমিকার প্রশংসা করে হাবিবুর রশিদ বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে ২৫০ শয্যার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব হাসপাতালটি নিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান যে ধরনের দায়িত্ব নিতে সাহস করেনি, মুগদা হাসপাতাল সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

পূবালী ব্যাংকের প্রতি আরও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব উদ্যোগে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে যেন আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সে বিষয়ে তিনি অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রথম দিকে হাসপাতালের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হলে প্রধানমন্ত্রীকে এনে হাসপাতালের বাকি কর্মকাণ্ডের সমাপ্তি করতে চান তাঁরা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক হাসপাতালের জন্য শুধু দক্ষ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেই হয় না। রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আর্থিক সেবার সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমেই রোগীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানবিক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

পূবালী ব্যাংক ও নিট গ্রুপের সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের কল্যাণে আরও বেশি এগিয়ে এলে তা অন্যদেরও উৎসাহিত করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।

হাবিবুর রশিদ বলেন, সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত, সহজে এবং সম্মানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান—এটাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার প্রতিটি উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের সহযোগিতার সুফল যেন প্রকৃত অর্থে রোগী ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে মানবিক, আধুনিক ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।