শিরোনাম
◈ ৭৫ কোটি টাকায় বদলে যাবে ধানমন্ডি লেক, হবে ‘নজরুল সরোবর’ ◈ ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী বদলে দিচ্ছেন গ্রামীণ অর্থনীতি, বছরে আসে ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ◈ তালাকের আগেই দেনমোহর চাইতে পারবেন স্ত্রী: হাইকোর্ট ◈ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ভিসা সুবিধা চালু করল সৌদি আরব ◈ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল: সিআইএ ◈ বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ ঢাকা, পিছিয়েছে বাংলাদেশের সব বড় শহর! ◈ সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ◈ সোলার প্যানেল নাকি মিনি উইন্ড টারবাইন, বাড়ির জন্য কোনটি বেশি লাভজনক? ◈ বৃহস্পতিবার মিরপুর-আগারগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০১ দুপুর
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৫৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান

একসময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লেই ছুটে যেতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি কিংবা বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান দ্রুতই তাকে পরিচিত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে তিনি পান ‘ফাটাকেষ্ট’ নাম।

বেশ অনেক দিন ধরে তাকে আগের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা না যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠেছে তিনি এখন কোথায়। তাকে ট্রান্সফার করা হয়েছে বলেও অনেক গুজব ছড়িয়েছে ফেসবুক-ইউটিউবে। তবে, কালবেলা অনলাইনকে নওশাদ জানালেন তিনি এখনও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যখন কথা হচ্ছিল তখন তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থার কাজ সারছিলেন।

নওশাদ খান ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (HSIA) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দায়িত্ব শুরুর পর থেকেই তার অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কোনো কোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে নজরদারি বাড়ানো কিংবা বিমানবন্দরের কর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনার মতো পদক্ষেপের কারণে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল তার।

বিশেষ করে লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ কমাতে নেওয়া হয়েছিল বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি-ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

Advertisement

ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই আলোচনায় আসত নওশাদ খানের নাম। তার তৎপরতায় অনেকেই মনে করেছিলেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ঠেকাতে এবার হয়তো কঠোর নজরদারি তৈরি হয়েছে।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আবারও বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে দেরি, ট্রলির সংকট কিংবা সেবা পেতে ভোগান্তি- এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনার ঘটনা সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার পর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে পুরোনো দিনের নওশাদ খানের অভিযানগুলোর ভিডিও ও খবর সামনে আনছেন। তাদের প্রশ্ন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ছুটে যাওয়া সেই কর্মকর্তা এখন কোথায়? বিমানবন্দরের অনিয়মের বিরুদ্ধে তার সেই দৃশ্যমান কঠোরতা কি আর নেই?

নওশাদ খানকে বিমানবন্দরে ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে পোস্ট ও কমেন্ট করেছেন।

উম্মে ফাতেমা একজন লিখেছেন, নওশাদ সাহেবকে দেখতে চাই। উনি ঠিক ছিল। আসলে ভালো মানুষের কদর নাই কিন্তু চোরের অনেক কদর আছে।

অন্তিকা বড়ুয়া নামের আরেকজন লিখেছেন, এই ভালো মানুষটাকে আবার বিমান বন্দরে যোগ দেওয়ানো হোক, এতে সরকারেরও সুনাম অর্জন হবে।

বর্তমানে কোথায় কী দায়িত্বে আছেন তা জানতে চাইলে নওশাদ খান কালবেলা অনলাইনকে বলেন, ‘আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের করলাম। এসব খবর অনলাইনে দেখছি।’

নওশাদ মূলত সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলেন। তাই সাধারণ মানুষ মনে করছেন তার ট্রান্সফার হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। এড়িয়ে চলি।’

বিমানবন্দরের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কিছু আসলে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে কেউ কোনো অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। সাধারণ মানুষকে বলব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে। তাহলে প্রতিকার পাবেনই।’

সূত্র: কালবেলা