মনিরুল ইসলাম: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাইয়ের চেতনা’ ধারণ করে সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের তাগিদ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি)সহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ ও টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পর সংবিধানে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। তবে এবার ‘জুলাইয়ের চেতনা’ ধারণ করে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোকে আলোচনায় আনতে হবে, তবেই এটি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
টকশো ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, সংবিধান সংশোধন যেন টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি হয়, সে বিষয়ে সবাই একমত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও প্রক্রিয়া নিয়ে কমিটি লিখিত মতামত চেয়েছে। বিরোধী দলসহ সংসদের সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করে এই সংশোধন করা হলে তা কম বিতর্কিত হবে বলেও তিনি মত দেন।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ প্রয়োজনীয় কি না—তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে কি না, কিংবা উচ্চকক্ষে সিভিল সোসাইটির নামে দলীয় প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা আছে কি না—এসব বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক এ কে এম মঞ্জুরুল হক নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে এর গঠন প্রণালী ও প্রধান উপদেষ্টা বাছাই প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট ও কার্যকর বিধান রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।