কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দুই সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চ্যানেল 24-কে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) পৃথকভাবে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন।
আলোচিত এ মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ২ অভিযুক্ত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরপর তাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের অবস্থান পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট ও শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর সাবেক এই সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ২০২৩ সালে অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
তবে এর দু’দিন পর ৬ আগস্ট তাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় পুলিশকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাফিজুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে একটি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই সময় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় পরদিন তনুর বাবা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় এই হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তে একাধিক সংস্থা যুক্ত হওয়ার পর বর্তমানে পিবিআই আলোচিত এ মামলার তদন্ত করছে।