শিরোনাম
◈ খে‌লোয়াড়‌দের আ‌র্থিক ক্ষ‌তি সামলা‌তে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি ◈ নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল ◈ সংসদে অনুপস্থিত এমপি, বাতিল হলো লিখিত প্রশ্ন: স্পিকারের ‘জি এম তো নাই’ মন্তব্যে হাসির রোল ◈ নতুন দায়িত্ব পেলেন এ্যানি ◈ ইংরেজি জানেন, বুঝতেও পারেন—কথা বলতে গেলেই সমস্যা কেন হয়? ◈ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইএসডিবির সঙ্গে চুক্তি সই ◈ জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস, কাল আসছে আরও এক এলএনজি কার্গো ◈ জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি নজরুল ইসলামকে নিয়ে স্পিকার বললেন, ‘জিএম তো নাই’ ◈ বয়স জালিয়াতির কার‌ণে এক সঙ্গে ৫০০ জন কু‌স্তি‌গির বহিষ্কার ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে রেমিট্যান্সের শীর্ষে ফের সৌদি আরব’

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:২০ বিকাল
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪২ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি : সংসদে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

মনিরুল ইসলাম: আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে যে ভোগান্তি হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর মাসে যেন আর না হয়—সে লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে জনগণ বর্তমানে কষ্টে রয়েছে এবং এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করার কাজ চলছে। এর ফলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলারসহ বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে, যাতে আগামী গ্রীষ্মে বর্তমান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট জ্বালানি সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে ২,৩০০ থেকে ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ আছে।

এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার বিষয়টিও সংকটকে তীব্র করেছে বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১,১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এর ত্রুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। গত ২১ জুলাই এ ত্রুটি দেখা দেয় এবং মেরামতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তবে বর্তমানে এ সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগ স্বাভাবিক এবং সরকার জনগণের প্রতিনিধিদের সঠিক তথ্য প্রদান ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • সর্বশেষ