মনিরুল ইসলাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে স্পিকারের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের লিখিত প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ হারালেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি. এম. নজরুল ইসলাম (গাজী নজরুল ইসলাম)।
আজ বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে ডাকেন। তবে নাম ঘোষণার পর তিনি সংসদ কক্ষে উপস্থিত না থাকায় প্রশ্নটি আর উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এ সময় স্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে হাস্যরসের সুরে বলেন, “জি এম তো নাই।” তার এই মন্তব্যে পুরো সংসদ কক্ষে হালকা হাসির রোল পড়ে এবং উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেককেই হাসতে দেখা যায়।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, প্রশ্নকারী সদস্য অনুপস্থিত থাকলে তার প্রশ্ন উত্থাপন ও আলোচনার সুযোগ থাকে না। ফলে নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও জি. এম. নজরুল ইসলামের প্রশ্নটি বাতিল হয়ে যায়।
জানা যায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে করা ওই লিখিত প্রশ্নে তিনি দেশে শ্রম আদালতের সংখ্যা, অবস্থান, বিচারাধীন মামলার পরিমাণ এবং মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
যদিও প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়নি, তবুও মন্ত্রীর প্রস্তুতকৃত লিখিত জবাব থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার জবাবে উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে ১টি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং ১৪টি শ্রম আদালতসহ মোট ১৫টি শ্রম আদালত কার্যকর রয়েছে।
এসব আদালত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
সংসদে একটি সাধারণ অনুপস্থিতি কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে আলোচনার বাইরে রেখে দেয়—এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।