শিরোনাম
◈ খে‌লোয়াড়‌দের আ‌র্থিক ক্ষ‌তি সামলা‌তে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি ◈ নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল ◈ সংসদে অনুপস্থিত এমপি, বাতিল হলো লিখিত প্রশ্ন: স্পিকারের ‘জি এম তো নাই’ মন্তব্যে হাসির রোল ◈ নতুন দায়িত্ব পেলেন এ্যানি ◈ ইংরেজি জানেন, বুঝতেও পারেন—কথা বলতে গেলেই সমস্যা কেন হয়? ◈ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইএসডিবির সঙ্গে চুক্তি সই ◈ জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস, কাল আসছে আরও এক এলএনজি কার্গো ◈ জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি নজরুল ইসলামকে নিয়ে স্পিকার বললেন, ‘জিএম তো নাই’ ◈ বয়স জালিয়াতির কার‌ণে এক সঙ্গে ৫০০ জন কু‌স্তি‌গির বহিষ্কার ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে রেমিট্যান্সের শীর্ষে ফের সৌদি আরব’

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৪ বিকাল
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইংরেজি জানেন, বুঝতেও পারেন—কথা বলতে গেলেই সমস্যা কেন হয়?

ইংরেজিতে কোনো সিনেমা বা ভিডিও দেখছেন, বেশিরভাগ কথাই বুঝতে পারছেন। ইংরেজিতে লেখা কোনো সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পড়তেও তেমন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু হঠাৎ কেউ ইংরেজিতে প্রশ্ন করলেই যেন সব শব্দ মাথা থেকে উধাও! সহজ একটি বাক্য বলতেও কয়েকবার ভাবতে হচ্ছে। অথচ একটু পরেই মনে হচ্ছে, কথাটা তো খুব সহজেই বলা যেত।

বাংলাদেশে ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ইংরেজি পড়ার পরও অনেকেই ভাষাটি বুঝতে পারলেও স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন না। এর অর্থ এই নয় যে তারা ইংরেজি জানেন না। বরং ভাষা শেখা আর সেই ভাষায় কথা বলার চর্চার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সমস্যাটা সেখানেই।

জানা আর বলার মধ্যে পার্থক্য
কোনো শব্দ দেখলে তার অর্থ মনে পড়া আর কথা বলার সময় নিজে থেকে সেই শব্দটি ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। পড়া বা শোনার সময় আমরা সামনে থাকা শব্দ চিনতে পারি। কিন্তু কথা বলার সময় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রয়োজনীয় শব্দ মনে করে বাক্য তৈরি করতে হয়।

যারা নিয়মিত ইংরেজি পড়েন বা শোনেন, কিন্তু খুব কম কথা বলেন, তাদের ক্ষেত্রে তাই ভাষাটি বোঝার দক্ষতা বলার দক্ষতার চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। কথা বলার দক্ষতা বাড়াতে হলে মুখে বলার চর্চাও দরকার।

ভুল করার ভয়
অনেকের সমস্যা ইংরেজি না জানা নয়, ভুল হয়ে যাওয়ার ভয়। কথা বলার আগে মাথায় ঘুরতে থাকে, গ্রামার ঠিক আছে তো? উচ্চারণ ভুল হচ্ছে না তো? সামনের মানুষটি কী ভাববে? বিশেষ করে বন্ধু বা সহপাঠীদের সামনে ভুল ইংরেজি বললে কেউ হাসতে পারে, এমন আশঙ্কাও কাজ করে। ফলে সহজ একটি কথা বলার আগেও অতিরিক্ত চিন্তা শুরু হয়। এতে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার গতি কমে যায়। কখনো জানা কথাটিও আর বলা হয়ে ওঠে না।

কিন্তু নতুন একটি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রতিটি বাক্য নিখুঁত করার চেষ্টা করতে থাকলে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শেখার ধরনেও আছে কারণ
আমাদের শিক্ষাজীবনে ইংরেজির সঙ্গে পরিচয় অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। গ্রামার, রচনা, প্যারাগ্রাফ, কম্প্রিহেনশন কিংবা নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর তৈরি করাই থাকে প্রস্তুতির বড় অংশ। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য এগুলো প্রয়োজনও হয়।

কিন্তু বাস্তব কথোপকথনের ধরন আলাদা। সেখানে আগে থেকে প্রশ্ন জানা থাকে না, উত্তর মুখস্থ করার সুযোগও নেই। অন্য একজনের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে নিজের বক্তব্য তৈরি করতে হয়। এই চর্চা কম থাকলে ইংরেজিতে ভালো ফল করা একজন শিক্ষার্থীও কথা বলার সময় আটকে যেতে পারেন।

আগে বাংলায় বাক্য বানিয়ে নিচ্ছেন?
ইংরেজিতে কথা বলার সময় অনেকেই প্রথমে বাংলায় পুরো বাক্যটি ভাবেন, এরপর সেটিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার চেষ্টা করেন। ছোট বাক্যে এটি খুব একটা সমস্যা তৈরি না করলেও দীর্ঘ কথোপকথনে বারবার অনুবাদ করতে গেলে স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা কঠিন হয়।

যেমন: ‘আমার একটু দেরি হবে’ বলার আগে যদি পুরো বাংলা বাক্যটির ইংরেজি কী হবে তা নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে উত্তর দিতে সময় লাগবেই। নিয়মিত ব্যবহৃত ছোট ছোট বাক্য সরাসরি ইংরেজিতে ভাবার অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে এই সময় কমতে পারে।

কঠিন শব্দ জানলেই ভালো ইংরেজি বলা যায় না
ভালো ইংরেজি বলতে হলে অনেক কঠিন শব্দ জানতে হবে, এমন ধারণাও অনেককে অযথা চাপে ফেলে। অথচ দৈনন্দিন কথোপকথনের বড় একটি অংশ পরিচিত ও সাধারণ শব্দ দিয়েই চালানো যায়। কথা বলার সময় কঠিন শব্দ খুঁজতে গিয়ে থেমে যাওয়ার চেয়ে পরিচিত শব্দ দিয়ে নিজের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা বেশি কার্যকর। শব্দভাণ্ডার ধীরে ধীরে বাড়বে, কিন্তু তার জন্য কথা বলা বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই।

চর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে
ইংরেজিতে কথা বলার জন্য সব সময় একজন বিদেশি বন্ধুর প্রয়োজন নেই। দিনের কোনো ঘটনা নিজের মতো করে ইংরেজিতে বলার চেষ্টা করা যায়। কোনো ভিডিও দেখার পর সেটির বিষয় দুই মিনিট মুখে বলা যেতে পারে। বন্ধুর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু সময় ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাসও করা যায়। নিজের কথা রেকর্ড করে পরে শুনলেও কোথায় বেশি থামতে হচ্ছে বা কোন শব্দগুলো বলতে সমস্যা হচ্ছে, তা ধরা সহজ হয়। শুরুতে পাঁচ মিনিটও যথেষ্ট। নিয়মিত বলাটাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইংরেজি বুঝতে পারা আসলে একটি ভালো শুরু। অর্থাৎ ভাষাটির সঙ্গে পরিচয় তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই জানা শব্দ ও বাক্যগুলোকে কথোপকথনে নিয়ে আসা। প্রথম দিকে থেমে থেমে কথা হতে পারে, ভুলও হবে। কিন্তু কথা না বলে শুধু আরও শব্দ বা গ্রামার শেখার অপেক্ষায় থাকলে সেই জড়তা সহজে কাটবে না।

তাই ইংরেজি বুঝতে পারছেন অথচ বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন বলে নিজের ইংরেজি দুর্বল ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রশ্নটা হতে পারে, শেষ কবে ইংরেজিতে কিছুক্ষণ কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন?

 

  • সর্বশেষ