মনিরুল ইসলাম : দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দুর্বল করে রাখা এবং পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার ফলেই বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ইতোমধ্যে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন চলছে, যা শেষ হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। বাকি কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে বড় পরিসরে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক জরিপ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করে অনুসন্ধান জোরদার করা হবে।
বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে দুটি আধুনিক রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
অফশোর ও অনশোর উভয় ক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।
এদিকে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে সরকার। কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হতে পারে। এ ছাড়া পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও ১-২টি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা ৬০০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে।