মনিরুল ইসলাম : দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়।
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর এ ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচন শুরুর পাঁচ মিনিট আগে লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভোট প্রদান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পরে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হবে এবং ফলাফল ঘোষণার আগে আবারও সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে।
চিফ হুইপ বলেন, “এটি ইতিহাসের একটি মাহেন্দ্রক্ষণ। এর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।” তিনি জানান, নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদীয় দলের বৈঠকটি বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে ৪টা ৪০ মিনিটে শেষ হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে দুটি প্রধান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ও সমমনা দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপরদিকে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়াবে।