শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৪ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএনপি নেতাদের নামে মামলা, পরদিনই নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার ও ইউএনও বদলি

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

Advertisement

একই সময়ে এ দুই কর্মকর্তার বদলির ঘটনায় নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারের পরদিনই এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

লালপুরে দায়ের করা এজাহারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাগাতিপাড়ায় দায়ের করা এজাহারে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লালপুরের এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা।

বাগাতিপাড়ার এজাহারে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না ও ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সরকারি সম্পদ ও অফিসে হামলার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। দলকে হেয় করতে একটি মহল এ ধরনের চক্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুটি উপজেলাতেই কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হন।

এর পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন। এসব এজাহারে মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহার দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার ও লালপুরের ইউএনও বদলির ঘটনায় এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে সরকারি আদেশে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ