নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলায় কৃষি জমির পাশে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রভিটা গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির চার কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং গুরুতর আহত একজন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের স্লুইস গেটসংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- প্রভিটা হ্যাচারি লিমিটেডের সহকারী সুপারভাইজার মো. জহির (৫০), স্টোর ম্যানেজার আব্দুর রহিম (৫৫) এবং প্রভিটা ব্রিডার্সের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) রেজাউল হক (৪৬)। আহত অপর ব্যক্তির নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রভিটা গ্রুপের ম্যানেজার (এডমিন) বোরহান উদ্দিন খলিফা অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলার কাজীরটেক এলাকায় প্রভিটা গ্রুপের জমিসংলগ্ন স্থান থেকে স্থানীয় মধ্যম চর উরিয়া গ্রামের আশ্রাফুল ইসলাম রুবেল, মো. আশ্রাফুল, নোয়াখালী মৌজার মো. আবদুল কাদের, মো. ইয়াকুব, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. ফারুক বিএনপির প্রভাব বিস্তার করে এবং নোয়াখালী পৌরসভা ছাত্রদল নেতা মো. ওয়াসিমের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন।
তিনি বলেন, এতে কৃষিজমি, জমির স্বাভাবিক গঠন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় প্রভিটা গ্রুপের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনে আপত্তি জানানো হয়। বালু উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে তাদের হুমকি-ধমকি দেন।
পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বালু উত্তোলনকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত মেশিন জব্দ করা হয়।
বোরহান উদ্দিন খলিফার দাবি, প্রশাসনের ওই অভিযানের পরই প্রভিটা গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিষ্ঠানের সহকারী সুপারভাইজার মো. জহির, স্টোর ম্যানেজার আব্দুর রহিম ও প্রভিটা ব্রিডার্সের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) রেজাউল হকসহ চারজন আহত হন।
প্রভিটা গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ওই চক্র কৃষিজমির আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনার পর প্রভিটা গ্রুপের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগটি অবহিত হওয়ার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্তরা দাবি করেছেন তারা, সংঘঠিত ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রভাকান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজীরটেক এলাকায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একটি মেশিন জব্দ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রভিটা হ্যাচারিতে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।