শিরোনাম

প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০৬ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

ভারতের ‘র’ প্রধানের সফর: নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম, জল্পনার অবকাশ নেই

মনিরুল ইসলাম: ভারতের বহুল আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা ( রিচার্স এন্ড এনালাইসিস উইং) 'র'এর প্রধানের  বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সফর কোনো ব্যতিক্রমী বা রাজনৈতিক সংকেতবাহী ঘটনা নয়; বরং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নিয়মিত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ।

আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে  এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। সে ধারাবাহিকতায় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সফর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে জঙ্গিবাদ দমন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের সফর আরও ঘন ঘন হতে পারে। তবে এতে অস্বাভাবিক কিছু দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন।

advertisement

এদিকে, একই ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাদুঘরটি উদ্বোধনের পরপরই বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে কিছুটা ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা তৈরি হলেও বর্তমানে তা অনেকটাই সমাধান করা হয়েছে।

সরকারি উদ্যোগে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে স্কুল শিক্ষার্থীদের জাদুঘর পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরা।

জনসম্পৃক্ততা ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ

সরকার মনে করছে, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কাঠামোবদ্ধ ভিজিট প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।

ভারতের ‘র’ প্রধানের সফর নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তা মূলত তথ্যের ঘাটতি থেকেই এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কেবল নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ—এর বেশি কিছু নয়। একই সঙ্গে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে কেন্দ্র করে যে জনআগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা ইতিহাসচর্চা ও জাতীয় চেতনা বিকাশে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছে সরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ