শিরোনাম
◈ মির্জা ফখরুলই কি বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হচ্ছেন? ◈ এক্সিমের পর সোশ্যাল ইসলামী বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ◈ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে স্বপ্নপূরণ অনুশ্রীর ◈ মার্কিন বাজারে চীন-ভারতের চেয়ে কম ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ ◈ ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনারের বাসভবনে আগুন ◈ রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন? জানুন সংবিধানের শর্তগুলো ◈ কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা, বহিষ্কার জামায়াতের আরেক নেতা ◈ বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন ◈ চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর

প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০২:২৩ রাত
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

জুলাই ৩৬  স্মৃতি জাদুঘর: উন্মুক্তের পরদিনই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দর্শনার্থীদের ঢল

মনিরুল ইসলাম : রাজধানীতে অবস্থিত জুলাই ৩৬ স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পরদিন থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জাদুঘরের সামনে ভিড় করছেন নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে গত বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে উদ্বোধনের দিন কেবল জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রবেশ সীমিত ছিল। পরদিন থেকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য টিকিটের মাধ্যমে প্রবেশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই জাদুঘরে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনার নয়, বরং ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪ সাল এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ শাসনামলের বিভিন্ন সময়ের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এখানে রয়েছে প্রতীকী আয়নাঘর, প্রতীকী কবর, জুলাই শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, নানা দলিল ও ডকুমেন্টারি—যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনকে মূল ভবনে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রবেশ সময়কে তিনটি স্লটে ভাগ করা হয়েছে—মর্নিং (১১টা–১টা), মিড-ডে (১:৩০–৩:৩০) এবং ইভিনিং (৪টা–৬টা)। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারছেন।

অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইনে দেখা যায়, ৬ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সব স্লট পূর্ণ রয়েছে এবং ১১ আগস্টের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফটকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন দর্শনার্থীরা। শিশু, তরুণ, শিক্ষার্থী, গৃহিণী থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে নির্ধারিত নিয়ম মেনে গ্যালারিগুলো ঘুরে দেখছেন।

অনেকেই কৌতূহল আর আবেগ নিয়ে প্রদর্শিত দলিল, আলোকচিত্র ও স্মৃতিচিহ্নগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যেই কথা হয় রামপুরা থেকে আসা এক গৃহিণী ময়মনার সঙ্গে। তিনি জানান, জুলাই গণআন্দোলনে আহত এক শিক্ষার্থীর আত্মীয় হিসেবে তিনি এই জাদুঘর দেখতে এসেছেন। ময়মনা বলেন, “আমি এসেছি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দেখে সেই সময়ের স্মৃতি মনে করতে। কীভাবে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে—তা জানতে ও বুঝতে চাই। এখানে যা কিছু সংরক্ষিত আছে, সব ঘুরে ঘুরে দেখবো।”

ইতিহাসকে কাছ থেকে জানার তাগিদ এবং জুলাইয়ের স্মৃতিকে অনুভব করার আকাঙ্ক্ষাই যেন মানুষকে টেনে আনছে এই জাদুঘরে। প্রতিকূল আবহাওয়াও সেই আগ্রহকে দমাতে পারেনি; বরং উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘরটি হয়ে উঠেছে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়