মনিরুল ইসলাম: দীর্ঘ প্রতীক্ষা পর অবশেষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। একনায়কতান্ত্রিক শাসনের নির্যাতন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের নানা স্মৃতি ও দলিল নিয়ে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি। বহুল প্রতীক্ষিত সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনীতিবিদরা বলছেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং লাখো মানুষের প্রতিরোধ, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক জীবন্ত স্মারক।
আগামী বুধবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ চলছে। জাদুঘরের নতুন প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয়েছে কালো রডের গেট, পাশে সাদা তাঁবু টাঙিয়ে তৈরি করা হচ্ছে উদ্বোধনী মঞ্চ। অতিথিদের বসার জন্য আলাদা আসন ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
বিশেষায়িত এই জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের নির্যাতনের দলিল-প্রমাণ দিয়ে। প্রবেশপথেই দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে পুরো জাদুঘরের একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাপ, যেখানে পার্কিং, স্মারক এলাকা, মেমোরিয়াল, ‘জুলাই মঞ্চ’, প্রতীকী আয়নাঘর, থিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থানের নির্দেশনা রয়েছে।
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। রক্তক্ষয়ী সেই গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনেরও অবসান ঘটে।
সেদিন গণভবনের প্রতিটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল জনতার ক্ষোভ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন চলে গিয়েছিল ছাত্র-জনতার দখলে।
এরপর বহু মানুষের চোখের জলের সাক্ষী সেই গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল-দস্তাবেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাক, বিভিন্ন স্মারক, আন্দোলনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ডসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।
অবশেষে সেই রক্তে ভেজা আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। যে জাদুঘরের দেয়াল জুড়ে এখন সাজানো আপসহীন সংগ্রাম, ৩৬ জুলাইয়ের জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের নানা প্রতিচ্ছবি। নির্মান শ্রমিকরা বলছেন এরই মধ্যে এই স্থাপনাটি দর্শনার্থীদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জানালেন, জাদুঘরের উদ্বোধন যথাযথ সময়ে হবে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে ত্যাগ ও সংগ্রামের জীবন্ত স্মারক হিসেবে দেখছেন সংসদ সদস্যরা।
ভবিষ্যতের কোনো শাসক যাতে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে, তা স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং জনরোষের ইতিহাস জীবন্ত রাখতে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়, বলছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেকরা।
প্রবেশের সময়সূচি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, রাখা হয়েছে অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থাও।