মনিরুল ইসলাম : দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর নেতৃত্বে ইসির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি, মনোনয়ন প্রক্রিয়া, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু
গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পাঠানোর মাধ্যমে পদত্যাগ কার্যকর হয়।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায় দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশন সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেছে।
স্পিকারের ভূমিকা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ ক্ষেত্রে স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, কারণ তিনি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সমন্বয় নিশ্চিত করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইসির এই বৈঠককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে।
সম্ভাব্য সময়সূচি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী শক্তির অবস্থান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এবং রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়গুলোও এ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সর্বোপরি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সৃষ্ট সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে নির্বাচন কমিশনের এই তৎপরতা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পীকারের সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাৎ পরবর্তী ব্রিফিং নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত হবে।